বিথী রানী নাথঃ নমস্কার/আদাব/সালাম।প্রথমেই ভালোবাসা জানাই এই ধরাধামের প্রত্যেক মাকে,যার অপার ভালোবাসায় আমাদের প্রত্যেকের জন্ম হয়েছে।আমি লিখতে ভালোবাসি বরাবর।আজো আমি লিখতেই এসেছি,কিন্ত যাকে নিয়ে লিখবো উনার কাছে আমার কলম মাথা নতো করে,আমার চোখ ছলছল করে,আমার উপসনায় যার স্থান সবার উপরে,তিনি আমার মা।
সবার কাছেই সবার মায়ের ব্যাখ্যা দেয়ার ক্ষমতা থাকে,কিন্ত আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।
মাঃ আমার মায়ের নাম দ্রৌপদী দেব নাথ।খুব ছুটো বেলা কিছু বুঝে উঠার আগেই বিয়ের পিড়িতে বসে গিয়েছিলেন,যখন পুতুল খেলার বয়েস তখন হাতে খুন্তি ধরে ছিলেন উনি।বাবার ভেতরটা নরম হলেও রগচটা মানুষ, কিন্ত মা জননী আমার ঠিক তার উল্টো,চুপচাপ,গম্ভীর,শান্ত,ভদ্র,,,আমার কাছে কোনো বাক্য নেই যা দিয়ে এই মা জননী কে সাজাতে পারি।বাবা আমার খুব সহজ সরল,উনার জীবন টা চলছে অন্যের ভালো করে। নিজে শুন্য হয়ে অন্যকে পরিপূর্ণ করার এই গুণ টা সবার থাকেনা। ফিরে আসি আমার জগত জননীর কথায়,,,জননী আমার সংগ্রামী মানুষ, এমনো দিন কাটিয়েছেন,প্রথম ছেলের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন নি,আমাদের অবস্থা ভালো ছিলো না,প্রথম ছেলে মারা যাওয়ার পর জননী পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্ত বিধাতা ঘর আলো করে আরো এক পুত্র দান করেন।আনন্দ, সুখ,ধন,ভালোবাসা সব ভরপুর হয়ে উঠে,সেই চাঁদ পানা মুখের নাম রাখা হয় চন্দন।২ বছর পর আরো এক পুত্র লাভ হয় মা জননীর,খোকা বলে ডাকেন উনাকে(খোকন)। কিন্ত জননী আমার কন্যা চান,উনার মায়ের পরে উনি আরো কাউকে মা বলে ডাকতে চান।
শুনেছি মা আমার অনেক পুজো-করেছিলেন শুধু আমাকে পাবেন বলে। উনার অনেক ভালোবাসায় আমার জন্ম হলো ১৯৯৭ সালের ১৬ ডিসেম্বরে। হ্যাঁ আমি সেই কন্যা,আমি সেই বিথী,যার জন্য জননীর এতো অপেক্ষা,পুরো গ্রাম আনন্দে আত্মহারা।কেননা আমার জন্মের পরেই পুরো গ্রামের মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পেয়েছিলো,গরিব দুখী কেউ বাদ যান নি আমার অন্নপূর্ণা মায়ের হাতে সবাই খেয়েছিলো সেদিন।কিন্ত অতি সাধের কন্যার কপালে সেই সুখ সইলো না।২ বছর বয়েসেই পলিও রোগে বাম পায়ের শক্তি হারাই।জননীর মুখেই শুনেছি,রাত ৩ টায় আমাকে নিয়ে পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন,ডাক্তারের একটা ভুল ইঞ্জেকশন আমার পুরো দুনিয়াটা বদলে দিল,করে দিলো আমাকে পঙ্গু। জননী বুক চাপরিয়ে শুধু এটাই বলতেন কেনো আমার ক্ষতি করে দিলেনা বিধাতা? চলে গেলো আমার ছুটোবেলা,,,,,,,,
বড় হওয়ার পর বুঝতে পারলাম আমার জননী আমার জন্য ভগবান।প্রত্যেক টা মুহুর্তে এতোটা ভালো কিভাবে বাসেন আমি সেই উত্তর খুঁজে পাইনা।কিভাবে একটা মানুষ এতোটা ভালোবাসতে পারে তা আমার মাকে না দেখলে বুঝতাম না।আমার জীবনে আমি সব সুখ পেয়েছি, যা চেয়েছি,চাওয়ার ও অধিক আমি পেয়েছি।মনে বড় ইচ্ছে আমি মায়ের সাথে শেষ নিদ্রায় যাব। মা সব সময় বলেন তুই আমার সাত রাজার ধন রে মা,,,,,,,,
মাকে দেখেছি হাজারো কষ্ট ভূলে আমাদের খেয়াল রাখতে,মা কখনো কিছু মুখ ফুটে বলেন না।কিন্ত আমার
না বলা সব কথা বুঝে যান।এতো ক্ষমতা শুধু এই মায়েদেরই আছে। আমার জীবনে, আমার চলার পথে আমি আমার মাকে চাই,খুব করে চাই,স্বার্থপরের মতো হলেও আমি মা জননীকে চাই।