কানাইঘাটে হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত সরকার দলীয় পরিবার

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৬

কানাইঘাটে হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত সরকার দলীয় পরিবার

Manual6 Ad Code

Press-Conসুরমা মেইল নিউজ : আওয়ামী লীগ নেতা শেল্টারের প্রতিবেশিদের হামলা-মামলা বিপর্যস্ত কানাইঘাটের আওয়ামীলীগ পরিবার। হামলা ও প্রাণনাশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। এলাকার মসজিদে জায়গা দেওয়া, ছেলের ডিস ব্যবসা ও নির্বাচনে অংশ গ্রহন করাই আমাদের অপরাধ বলে অভিযোগ করেছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তর ঝিঙ্গাবাড়ি দলইরমাটি এলাকার আব্দুর রহিম তালুকদার।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তবে আব্দুল রহিম বলেন, একটি কুচত্রুী মহলের হামলা, লুটপাটের কারনে আজ আমি বাড়িঘর ছাড়া। আমার পরিবার পথে বসে গেছে। পাশাপাশি আমি পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন হুমকির মুখে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছি। ওই কুচত্রুী মহলের হামলায় আমার স্ত্রী হায়াতুন নেছা এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক ভাবে আমি সহযোগিতা পাচ্ছি না। এজন্য আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি।

আমার সন্তানরা জাতিক জনকের আর্দশে বিশ্বাসী হয়ে রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগের অনুসারী। সামাজিকভাবে প্রতিষ্টিত হওয়ায় আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে একত্রে বসবাস করছি। কিন্তু একই গ্রামের পাশের বাড়ির চাচাত ভাই নুরে আলম নুরুল, আব্দুল জলিল, জালাল আহমদ, হাজী আসাদ, আব্দুল হালিম, আব্দুল কুদ্দুস, পাশের বাড়ির ভাতিজা ফারুক আহমদ, খসরুজ্জামান, নজমুল ইসলাম ও আজমল হোসেন ও তাদের সহযোগিরা আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে ওরা বিএনপি জামায়াতের অনুসারী হওয়ায় পূর্বে থেকেই ওদের সঙ্গে আমাদের মানসিক দুরত্ব ছিল।

Manual5 Ad Code

আমার চতুর্থ ছেলে এবাদুর রহমান তালুকদার প্রগতিমনা মানুষ। সে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বুরহানউদ্দিন বাজারে ফাইভস্টার ক্যবল নেটওয়ার্ক নামের একটি ডিস ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিন্তু নুরুল ও তার সহযোগিরা এই ক্যাবল ব্যবসায় গত অক্টোবর মাসে বাধা প্রদান করে। তারা ফতোয়া জারি করে বলে, ডিস চালানো হারাম। এ কারনে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তারা চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু এলাকার লোকজন তাদের ওই বাধায় সায় দেয়নি।

ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আমার দ্বিতীয় ছেলে আজিজুর রহমান প্রার্থী হয়। একই সঙ্গে আমার চাচাত ভাই নুরে আলম নুরুলও প্রার্থী হয়। নির্বাচনকালীন সময়ে নুরুল ও তার সহযোগিরা নানাভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চালায়। এ সময় হুমকি ধমকিও দেওয়া হয়। আর এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে জানানোও হয়েছে। নির্বাচনে আমার ছেলে আজিজুর রহমান ও চাচাত ভাই নুরে আলম নুরুল পরাজিত হন।

Manual7 Ad Code

আমার পুর্ব পুরুষরা গ্রামে পাঞ্জেগানা মসজিদের জন্য জমি দিয়েছিলেন। ওই জমিতে পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ গড়ার উদ্যোগ নেন গ্রামবাসী। পাঞ্জেগানা মসজিদে মিলাদ ও শিরনীর আয়োজনের দিন সকালে আমার ভাতিজা আজমল হোসেন শিরনীর প্রস্তুতি চলাকালে গিয়ে আমার ছেলে আজিজকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। বিষয়টি সালিশি বৈঠকে আমি গিয়ে ছেলে পক্ষে নুরুল ও তার সহযোগিদের কাছে ক্ষমা চাই। ক্ষমা চাওয়ার পরদিন নুরুল ও তার সহযোগিরা সালিশ বৈঠক আহবান করেন। ওই সালিশ বৈঠকে তারা সিদ্বান্ত নেয়-আমার পরিবারকে ‘একঘরে’ করে রাখবে। এই সালিশের অমানবিক সিদ্বান্তের বিষয়টি আমরা কানাইঘাট থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে অবহিত করলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে, সালিসের পরদিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমার চাচাত ভাই নুরে আলম নুরুল, হাজী আসাদ জালাল আহমদ, আব্দুল হালিম, আব্দুল কুদ্দুস, ভাতিজা ফারুক আহমদ, খসরুজ্জামান, নজমুল ইসলাম ও আজমল হোসেন ও তাদের সহযোগিরা জুম্মার নামাজের পর আমার বাড়িতে হামলা চালায়। প্রায় ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে তারা পরিবারের সবাইকে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। এবং আমার বাড়িঘরে লুটপাট চালায়।

Manual3 Ad Code

হামলার ঘটনার পর আমার পরিবারের সব সদস্যদের স্থানীয় গ্রামের লোকজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২য় পুত্রবধুর ৫ ভরি সোনা ও নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা সহ আরো ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আসবাপত্র ভাংচুর হওয়ার কারনে আমরা এখন নি:স্ব। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না।

Manual1 Ad Code

এসব ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা করি। কিন্তু হামলা ও লুটপাট চালানোর পর কানাইঘাটের এক আওয়ামী লীগ নেতা সহযোগিতায় তারাও পাল্টা মামলা দায়ের করে। তাদের মামলায় আমরা জামিনে রয়েছি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও আমরা ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি না। এ কারনে বসবাস করছি সিলেট নগরীতে। অন্যদিকে, আমাদের বাড়িঘরও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

অন্তত প্রশাসন নিরপেক্ষ হলে হামলাকারী বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডাররা কিছুটা ক্ষান্ত হবে। সংবাদ সম্মেলনের আব্দুর রহিম সামাজিক ও আইনীভাবে ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code