গুম করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৫

গুম করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন

Manual8 Ad Code

সুরমামেইল ডেস্ক :
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

বৈঠক শেষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আসা অধ্যাদেশের খসড়াটি এদিন উপদেষ্টা পরিষদের সামনে তোলা হয়েছিল। গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি উত্থাপনের পর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এটার ওপর আরও আলোচনা হবে। আলোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

Manual3 Ad Code

 

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ গত বছরের ২৯ অগাস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্যা প্রোটেকশন অব অল পার্সনস ফ্রম এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স’-এ যুক্ত হয়। ওই কনভেনশনের আলোকে এবং সংবিধানে সংরক্ষিত জীবন ও ব্যক্তির স্বাধীনতার অধিকার কার্যকর করার উদ্দেশ্যে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

শফিকুল আলম জানান, এ বিষয়ে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের মতামত ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস বা ব্লাস্ট ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মতামত; আইন মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুটি মতবিনিময় সভা থেকে পাওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি পরিমার্জন করা হয়।

 

Manual7 Ad Code

খসড়া অধ্যাদেশে গুমকে সজ্ঞায়ন ও শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

 

গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে বলা হয়েছে খসড়ায়। ভুক্তভোগী, তথ্য প্রচারকারী ও স্বাক্ষীদের সুরক্ষা ও ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতেও বিধান রাখা হয়েছে বলে প্রেস সচিব জানান।

 

গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষার জন্য তহবিল গঠন ও তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খসড়ায়।

 

বৈঠকে নৌ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং একটি স্থলবন্দরের ‘অপারেশনাল কার্যক্রম’ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

Manual4 Ad Code

বন্ধ হওয়া বন্দরগুলো হচ্ছে- চিলাহাটি স্থলবন্দর, দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর, তেগামুখ স্থলবন্দর। এছাড়া বাল্লা স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

 

প্রেস সচিব বলেন, যে বন্দরগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নিজস্ব সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিপরীত পাশে ভারতের অংশে আরেকটি বন্দর নেই। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো আমদানি রপ্তানির কোনো কাজেই আসছিল না। এসব কারণে বন্দরগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code