গুলশান হামলার দু’বছর: বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত: ২:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১, ২০১৮

গুলশান হামলার দু’বছর: বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Manual2 Ad Code

রাজধানীর গুলশান এলাকায় হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ঘটনার দু’বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ওই হামলার দুই বছরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Manual3 Ad Code

ইতোমধ্যে কিভাবে হামলা করেছিল জঙ্গিরা, হামলার আগে তারা কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, কয়জন জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছিল, হামলার সময় কাদের সাথে যোগাযোগ করছিল হামলাকারীরা এবং কিভাবে, কারা তাদের মদদ দিয়েছিল? এসব তথ্য বের করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এখন শুধু আদালতে চার্জশিট জমা দেয়ার অপেক্ষা। জুলাই মাসের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশান-২ এর হলি আর্টিসান বেকারিতে আক্রমণ করে কয়েকজন জঙ্গি। এ সময় দেশী-বিদেশী ২২ জন নাগরিককে হত্যা করে তারা। এর মধ্যে ইতালির নয় জন, জাপানি সাত জন, ভারতীয় এক জন, আমেরিকার এক জন ও বাংলাদেশী দুই জন নাগরিক ও দুই জন পুলিশ কর্মকর্তরা রয়েছেন। এছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে বেশী-বিদেশী মোট ৩২ জন নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।

Manual8 Ad Code

এদিকে, অভিযানের পর নিহত ছয় জঙ্গি হামলায় সহায়তাকারীদের আসামি করে রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ওই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

তবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশকে অকার্যকর করা, বিদেশীদের মধ্যে ভয় ত্রাস সৃষ্টি করা বিশেষ করে দেশের চলমান উন্নয়ন ব্যহত করা এবং বিদেশী ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে সরকারকে পতন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র ছিল। যেহেতু এ নৃশংস ঘটনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট এ মামলা তদন্ত করে।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে জড়িত যারা অভিযানের দিন বা বিভিন্ন পর্যায়ে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করছি। এ মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা, টেকনোলজি, বিশেষজ্ঞের মতামত, আলামত সংগ্রহ, স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া ছিল। আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিজ্ঞ অফিসারগণ তদন্তকালে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের কার কি কি পার্ট ছিল যেমন- বাস্তবায়নের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের জন্য যারা জড়িত, অস্ত্রের উৎস, অর্থের যোগানদাতা, আশ্রয়দাতা, কোর্ডিনেটরদের সকলকে শনাক্তসহ অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার জন্য ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলা তদন্তকার্য শেষ পর্যায়ে। নিরীহ লোক যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হয়েছে।’

Manual6 Ad Code

যে কারণে হামলা : বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান হয়েছে, সারা বিশ্বকে এমন তথ্য জানানোর জন্য এই হামলা করা হয়। তবে হামলা করার আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে এই হামলার পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা।

যেভাবে হয় পরিকল্পনা : হামলার আগে জঙ্গিরা একটি পরিকল্পনা করে। এতে ঢাকা নগরী সম্পর্কে ধারণা আছে এমন তিনটি ছেলেকে বাছাই করা হয়। এছাড়া আরো দুটি ছেলেকে গ্রাম থেকে বাছাই করা হয়। হামলাকারী বাছাই শেষে ওই পাঁচজনকে গাইবান্ধায় পাঠানো হয়। সেখানে তাদের দেয়া হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ। ২৮ দিন প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পাঠানো হয় ঢাকায়।

যে কারণে টার্গেট করা হয় হলি আর্টিজান বেকারিকে : পাঁচ জঙ্গিকে গাইবান্ধা থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা বসুন্ধারা এলাকায় আনা হয়। একই সাথে চলতে থাকে গুলশান-বারিধারার সুবিধাজনক এলাকায় টার্গেট বাছাই এর কাজ। এক পর্যায়ে হামলার উপযুক্ত টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয় গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর রোডের হলি আর্টিসান বেকারিকে। বেকারিটি হামলার উপযুক্ত টার্গেট হবার মূল কারণ এটিতে প্রচুর সংখ্যক বিদেশী অতিথির আনাগোনা ছিল।

Manual3 Ad Code

যেভাবে হামলায় অংশ দেয় ৫ জঙ্গি : হামলাকারীরা বসুন্ধরা এলাকার বাসা থেকে প্রথমে রিকশা ও পরবর্তীতে পায়ে হেঁটে হলি আর্টিজানে আসে। এ সময় তাদের কাঁধে ব্যাগ আর পরনে ছিল টিশার্ট-জিনস-কেডস। আউটফিট এমন ছিল যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত মুভ করা যায়।

ভিকটিমদের মোবাইল ব্যবহার : হলি আর্টিজান বেকারিতে আসার সময় হামলাকারীরা তাদের সাথে করে নিজস্ব কোন মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যায়নি। যতক্ষণ তারা হলি আর্টিজানের ভেতরে ছিল ততক্ষণ তারা ভিকটিমদের মোবাইল ও আইপ্যাড ব্যবহার করে ছবি তুলে মিরপুরের শেওরাপাড়ায় অবস্থানরত তামিম চৌধুরী এবং নুরুল ইসলাম মারজানের কাছে পাঠায়। তবে পরবর্তীতে সোয়াট ও পুলিশের আলাদা অভিযানে নিহত হয়েছেন তামিম চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম।

যেভাবে সংগ্রহ করা হয় হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র : হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকসমূহের মূল যোগান আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোর সীমান্ত দিয়ে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। তবে পরবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন উৎস থেকে অস্ত্রের যোগান এসেছিল কিনা সে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code