সিলেট ২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনো খালেদের মুখে বেরিয়ে আসছে বিস্ময়কর ঘটনা ও একেকজন রাঘব বোয়ালের নাম। বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজিতে সহায়তাকারী বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার নাম ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে বলেছেন তিনি।
যুবলীগের ক্যাসিনোবাজ নেতা খালেদ মাহমুদের মুখ থেকে এমন অন্তত ৫০ জনের নাম শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।
বিশেষ করে মতিঝিল ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোগুলো থেকে পুলিশ প্রকাশ্যে মাসোহারা নিয়ে যেত। গুলশান থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা দুই মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার রাজত্ব ছিল অনেক বিস্তৃত। রাজধানীর ১৭টি ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি, পশুর হাটের চাঁদাবাজি, মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জমি দখলের কাজে জুড়ি নেই তার। নিজের সম্পদ, অর্থ উপার্জন, ক্যাসিনো ব্যবসার তথ্য ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। খালেদ মাহমুদের বর্ণনায় টেন্ডার বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের চিত্র উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বলেছেন, ‘এক চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে খাতির আছে। আমি টাকা দিয়ে কাজ নেই। এই যেমন একটা কাজের জন্য তাকে ১৯ কোটি টাকা দিয়েছি।’ ক্যাসিনোর টাকা কার কাছে যায়নি—এমন বিস্ময়সূচক মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও প্রভাবশালী মহলের অনেকের পকেটেই যেত। ঢাকায় ৮০-৯০টি হাইরাইজ বিল্ডিং করেছি। এসব টেন্ডার আমি পেয়েছি। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে অফিসের হাতে। কে টেন্ডার পাবে, কে কী করবে—এসব তো তারা নির্ধারণ করে। এতে নির্দিষ্ট একটা পারসেন্ট দেওয়ার বিষয় থাকে। একটি কাজ পেতে তাদের ৫ কোটি টাকাও দিতে হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও এই অর্থপ্রাপ্তি থেকে বাদ যেতেন না। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের আগারগাঁও অফিসের এক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কারণ আমার ৫০ লাখ টাকার একটি বিল আটকে রেখেছিলেন তিনি।’
জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে ডিবির একটি সূত্র জানায়, খালেদ সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তত ৫০ জনের নাম বলেছেন, যাদের সঙ্গে তার অর্থ লেনদেন হয়েছিল।
এদিকে, মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগের এই নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়ংম্যানস ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করতেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নিতেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো বসে।
খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হতো খালেদকে। শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের হাট বসে। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া হতো তাকে। এ কথায় খালেদ ছিলেন সব কিছুর নিয়ন্ত্রক।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি