দাবি পূরণের আশ্বাসে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্নদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

দাবি পূরণের আশ্বাসে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্নদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দাবি পূরণের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা।

 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ সাদিক বলেন, সোমবার সকাল থেকে তারা কাজে যোগ দেবেন।

 

Manual7 Ad Code

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে সমঝোতা না হওয়ায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

 

তার পরিপ্রেক্ষিতে রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

রোববার দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে আবার বৈঠকে বসেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আনসারদের হাসপাতালের জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন পরিচালক।

 

এ ছাড়া মোট আটটি বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিজেদের দাবি-দাওয়া জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

Manual7 Ad Code

 

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা সোমবার সকাল ৮টা থেকে কাজে যোগ দেব।

 

এ সময় ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎকরা আমাদের দাবি মেনে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। এরই মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে দুজন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড, একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এ ছাড়া রাতের পালায় ১ ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে জরুরি ভিত্তিতে ‘ডাকা মাত্র’ আনসার সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

 

রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন (অ্যাটেন্ডেন্ট) থাকতে পারবেন। শীত ও গ্রীষ্মকালে আলাদা সময়ে স্বজনদের জন্য রোগীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই একজন রোগীর জন্য দুজনের বেশি স্বজনকে অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সভার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সর্বদা মিড লেভেল চিকিৎসক থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যাডমিশনের দিন।

 

অধিকাংশ অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে প্রয়োজনীয় অনুয়ায়ী শেখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। এ বিষয়ে তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

 

Manual6 Ad Code

হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে।

 

Manual5 Ad Code

নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে। হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের জন্য সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code