দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় : মির্জা ফখরুল

Manual2 Ad Code

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। প্রশাসনের শত বাঁধা, গ্রেফতারসহ নানা প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও ময়মনসিংহে লাখো মানুষের সমাবেশ এটাই প্রমাণ করে। তাই সংসদ ভেঙে দিয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। ইনশাল্লাহ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্ণচূড়া চত্বরে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual1 Ad Code

মির্জা ফখরুল বলেন, সমাবেশের আগে বিএনপি নেতা লিটন আকন্দসহ ময়মনসিংহে প্রত্যেকটি উপজেলা থেকে ১০/১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের শত বাঁধা উপেক্ষা করে খালেদা জিয়া মুক্তির সমাবেশে লাখো মানুষ উপস্থিত হয়েছে। দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। বেগম জিয়া শুধু নেত্রী নন, তিনি এ দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের স্পন্দন, জনগণের প্রতিনিধি।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখতে পারবেন না। বন্দুক-পিস্তলের জোরে সব হবে না। ৭১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে নির্যাতন চালিয়েছিল। এখন নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে খুন, গুম করা হয়েছে। পায়ে গুলি করা হচ্ছে। তবুও কারো মাঝে ভয় নেই। এটাই বিএনপি। আমাদের সংগ্রাম কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো হয়। আমাদের সংগ্রাম গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম, সংবিধান রক্ষার সংগ্রাম। দেশের পতাকা সমোন্নত রাখা, মা-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগ্রাম।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভোট ডাকাতি করে নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট লুট করে নিয়ে গেছেন। এটা ক্যাসিনো থেকে বড় অপরাধ। জবাব দিতে হবে। ব্যাংক লুট করেছেন, নির্বাচনের আগে ১০ টাকা করে চাল খাওয়াবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪০ টাকা দরে চাল খাওয়াচ্ছেন। বিনা পয়সায় সার দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করেছে। কৃষকরা এখন ধানের দাম পায় না। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য টাকা পাচ্ছে না। সব টাকা পাচার হচ্ছে সুইচ ব্যাংকে। কারা দেশের টাকা লুট করছে। দেশের মানুষ জানে। শুধু কি যুবলীগ-ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ লুটপাট করছে।

Manual6 Ad Code

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, পুলিশ ভাইদের বলছি, কেন আপনারা অপকর্মের দ্বায়িত্ব নিচ্ছেন। পারলে জনগণের প্রতিপক্ষ না হয়ে লুটপাটকারীদের প্রতিহত করার দ্বায়িত্ব নিন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নেত্রীর মুক্তির জন্য আরো ঐক্যবদ্ধ হোন। খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন। ইনশাল্লাহ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

এ সময় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং জেলা উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, আ: আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মিন্টু, খাইরুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, আ: বারী ড্যানী, আব্দুল্লাহ ফারুক, কৃষিবিদ শামসুল আলশ তোফা, ডা: মাহাবুর রহমান লিটন, নূরজাহান ইয়াসমীন, আরিফা ইয়াসমীন, শাহ শহীদ সারোয়ার, যুবদলের সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আ: কাদির ভূইয়া জুয়েল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম প্রমূখ।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code