ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যস্ত

Manual2 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ২৫টি গ্রাম।

Manual5 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

Manual4 Ad Code

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙনে উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে।


।আরও পড়ুন


বিশেষ করে মোকাবিল ও গঙ্গানগর এলাকায় বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ায় লোকালয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবেশ করছে। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর-আদমপুর প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মখাবিল, ভান্ডারীগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুরসহ অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। কৃষকদের আউশ ধানের ক্ষেত ৩-৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

Manual3 Ad Code

এছাড়া ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান ও চলমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

বাঁধ ভাঙনের কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাঁধের মোকাবিল অংশটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু সময়মতো সংস্কার না করায় আজ এ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, মোকাবিল এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি সংস্কারের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার কারণে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যতটুকু মেরামত করা সম্ভব হয়েছিল, পানির প্রবল তোড়ে তা ভেঙে গেছে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, তিনি বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার কাজ চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

এদিকে, বর্তমানে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপরে থাকায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকলে মনু ও কুশিয়ারা নদীর অববাহিকায়ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

(সুরমামেইল/এমবিএন)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code