নাহিদের রেকর্ডের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় লজ্জার হার বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬

নাহিদের রেকর্ডের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় লজ্জার হার বাংলাদেশের

Manual7 Ad Code

খেলা ডেস্ক:
গত সপ্তাহেই জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে আড়াই দিনে ইনিংস ও ৮৫ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও একই চিত্রনাট্য। প্রথম ম্যাচে টাইগারদের ২৫ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ের লজ্জা উপহার দিল স্বাগতিক দল।

 

মাত্র ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হারল বাংলাদেশ। এ ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন নাহিদ রানা। ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই তারকা। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

 

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার বেন কারান এবং ব্রায়ান বেনেট শুরুটা ভালোই করেছিলেন। দেখেশুনে এগিয়েছেন। ব্যাট চালিয়েছেন রানও বের করেছেন। দলের ৩৬ রানের মাথাতে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ১৯ বলে ১৮ রান করা কারান হয়েছেন রানআউট।

 

একই ওভারে সাজঘরে ফিরে যান বেনেটও। ২৪ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন তিনি। বেনেটকে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। সেট দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। চারে নামা ক্রেইগ আরভিন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। তাকেও ফেরান তাসকিন। এরপর জিম্বাবুয়ের দুর্গে হানা দেন নাহিদ রানা। তারকা অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন রানা। ১২ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রাজা।

 

এরপর থেকে নিজের প্রতি ওভারেই উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ রানা। একে একে বিদায় করেছেন ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লিভ মাদান্দে, ইনোসেন্ট কাইয়া এবং ব্র্যাড ইভান্সকে। কাইয়া এবং ইভান্সকে ফেরান একই ওভারে। তিনে নামা কাইয়া দারুণ লড়াকু ব্যাটিংয়ে খেলেছেন ৩৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস।

 

Manual4 Ad Code

৭০ রানের মধ্যেই ৮ উইকেট হারিয়ে একশ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগে জিম্বাবুয়ের। যদিও তা হয়নি। ৯ম উইকেটে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা এবং নিউম্যান নিয়ামহুরির জুটির সুবাদে ১০০ পার করে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। চাপের মুখে দারুণ লড়াকু ব্যাটিংয়ে দলকে টেনেছেন দুই টেইলএন্ডার। সুযোগ বুঝে বের করেছেন বাউন্ডারিও। দলের বোর্ডে তুলেছেন রান।

 

সময়ের সাথে সাথে বড় হয়েছে নিউম্যান এবং এনগারাভার জুটি। টাইগার বোলাররা কোনোভাবেই ভাঙতে পারছিলেন না তাদের জুটি। ক্রিজে যেন আঠার মত লেগে যান দুজন। জুটি ভেঙেছেন সেই নাহিদ রানা। ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে করেছেন বোল্ড। শেষ পর্যন্ত ১৪১ রান করে থেমেছে জিম্বাবুয়ে। নিয়ামহুরি থামেন ৫১ বলে ৩৩ রান করে। তাকে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

 

বাংলাদেশের হয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ রানা। ২ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ১ উইকেট তোলেন মিরাজ। জবাব দিতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১১ রানেই ভেঙেছে তানজিদ হাসান তামিম এবং সৌম্য সরকারের ওপেনিং জুটি। ৬ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তানজিদ। তিনে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তও সুবিধা করতে পারেননি। ৭ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। পরের ওভারেই ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে ৬ রান করেছেন তিনি। মাত্র ১৭ রান তুলতেই হাওয়া ৩ উইকেট।

 

Manual7 Ad Code

এরপর ক্রিজে জুটি বেঁধেছেন নুরুল হাসান সোহান এবং তাওহিদ হৃদয়। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট চালিয়েছেন দুজন। বের করেছেন সিঙ্গেল। চাপের মুখে অযথা আগ্রাসী ব্যাটিং চালাননি হৃদয়-সোহান। যে কারণে উইকেটের পতনও থেমেছে।

 

সোহান-হৃদয়ের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। ঘুরে দাঁড়াতে থাকে খাদের কিনারা থেকে। তবে বড় পরিশ্রম শেষ করেই যেন বিশাল ভুল করতে মন চাইলো হৃদয়ের। দলের ৬৬ রানের মাথাতে ৫৮ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন তাওহিদ হৃদয়। স্ট্যাম্পের বেশ বাইরের এক বল চালিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি।

 

ছয়ে নেমে হতাশ করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। ৭ বলে ৩ রান করে কট বিহাইন্ড হন তিনি। চাপ সামলে আগাতে থাকা বাংলাদেশ হুট করেই ৭৪ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট।

Manual5 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন নুরুল হাসান সোহান। সাতে নেমে যোগ দেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুটা ভালোই করেছিলেন মিরাজ। দারুণ কিছু শটে রানও বের করেছেন। হাঁকান একটি চারও। তবে ভালো শুরুর পরেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মিরাজ। ১৮ বলে ১০ রান করে আউট হন অধিনায়ক। ৮৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

 

এত দুর্দশার মাঝেও টিকে ছিলেন সোহান। যদিও বেশিক্ষণ চলেনি সোহানের ব্যাটও। ৪৪ বলে ৩১ রান করে দলের ৯৮ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। তাতেই যেন আশার সব আলো নিভে যায় বাংলাদেশের। এক ওভার পর ১০ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রিশাদ হোসেনও। সহজ রাস্তাতেও পথ ভুলে ম্যাচ হারতে বসে বাংলাদেশ।

 

শেষ দিকে লেজের দিকের ব্যাটাররাও অতটা লড়তে পারেননি। তাদের লড়ার কথাও ছিল না। ১০ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তাসকিন আহমেদ। শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা মিলে কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেসব কাজে আসেনি। ১১৬ রানেই থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৩.১ ওভার শেষে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

 

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স এবং রিচার্ড এনগারাভা। ২টি করে উইকেট নেন নিউম্যান নিয়ামহুরি এবং ব্লেসিং মুজারাবানি।

 

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। সিরিজের পরের ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ৯ জুলাই।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code