মৌলভীবাজারের বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বাঁধ ভেঙে চার গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৬

মৌলভীবাজারের বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বাঁধ ভেঙে চার গ্রাম প্লাবিত

Manual1 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

Manual3 Ad Code

বুধবার (৮ জুলাই) সকালের দিকে এই বাঁধ ভেঙে যায়। এতে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

 

এদিকে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদ-নদীর পানি। আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলাজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।

 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ ঘণ্টায় জেলায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

Manual5 Ad Code

 

ভানুবিল গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব মিয়া হোসেন বলেন, হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ঘরের আসবাবপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

 

এদিকে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া এলাকার সকালে বাঁধ ভেঙে আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল, মাঝেরগাঁও, কোনাগাঁও ও ছনগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

 

বন্যার পানিতে আমন মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক কৃষিজমি, সবজি, কলা, পেঁপে সহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক খেত এখনও পানির নিচে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

 

ছনগাঁও গ্রামের রাম কান্ত সিংহ জানান, ‘এত দ্রুত পানি বাড়বে, তা কল্পনাও করিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জমি পানিতে তলিয়ে যায়।’

Manual6 Ad Code

 

মাঝেরগাঁও গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, ‘কৃষিই আমাদের একমাত্র অবলম্বন। পাহাড়ি ঢলে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।’

 

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের অন্তত ১২০ থেকে ১৫০টি পরিবারের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়েন্ত কুমার রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বুধবার সকাল ৯টার পর্যন্ত জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে ধলাই নদীর পানিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। মনু নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

(সুরমামেইল/এমবিএন)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code