সিলেটে কবি নজরুলের আগমনের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬

সিলেটে কবি নজরুলের আগমনের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন

Manual6 Ad Code

সিলেটে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ, সিলেটের উদ্যোগে গত রোববার (২৪ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এর আয়োজন করা হয়।

 

উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও সিংহবাড়ির কৃতিসন্তান জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক ও লেখক সঞ্জয় কুমার নাথ ও বচিক শাশ্বতী ঘোষ সোমার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেটের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সম্মানিত বিশেষ অতিথি ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, রাজেশ ভাটিয়া ও দৈনিক আগামীর সময়ের আবাসিক সম্পাদক আহমেদ নুর।

 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপিস্থিত ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, উত্তরা ব্যাংকের অব. জি.এম, সমাজসেবী নিরেশ চন্দ্র দাশ, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, গবেষক-সাংবাদিক সুমন কুমার দাশ, গল্পকার জামান মাহবুব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অব. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন চন্দ্র পাল, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে জাদু, অব. শিক্ষয়িত্রী শিলা সাহা, অধ্যাপক অনবীর রায়, এপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বনিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জ্যোতিমোহন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিকজন কৃষ্ণা তালুকদার কনিকা, কবি পুলিন রায়, এ্যাডভোকেট ফণী ভূষণ সরকার, লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক ম্যানেজার দীপক দাশ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী ঘোষ লোনা, শাবিপ্রবির সহকারী রেজিস্ট্রার অসিত কুমার সূত্রধর, অধ্যাপক কিরিটি পাল, সহকারী অধ্যাপক ইন্দ্রজিত রায়, অব. শিক্ষক নরেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ প্রাণদীশ দেব, সমাজ হিতৈষী রামাকান্ত গুপ্ত রুপু, সংগীত শিল্পী বিমান তালুকদার, চলন্তিকা প্রিন্টার্সের ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রহিম, সংগীত শিল্পী মিনাক্ষী ভট্টাচার্য্য, সুমন চন্দ্র তালুকার, অপূর্ব কুমার দাস, আব্দুল হাই, শিপ্রা রানী নাথ, চম্পা রায়, নীলকণ্ঠ দাস ও শংকরী দাস প্রমুখ।

 

সিংহবাড়ির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রভাতী সিংহ মজুমদার, পরমা সিংহ মজুমদার। এছাড়া সিলেটের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে অবস্থান করেছিলেন। এসময় তিনি নগরের চৌহাট্টাস্থ ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, যা সিলেটবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন বলেন, কবি নজরুলের সিলেট আগমন শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কবির স্মৃতি, সাহিত্য ও সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য।

 

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয়। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিঝরা বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, দ্রোহ, মানবমুক্তি ও চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Manual5 Ad Code

 

বক্তারা আরও বলেন, “১৯২৬ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কবির সিলেট আগমন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে সিংহবাড়িতে তাঁর অবস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা আজও মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। সেই ইতিহাস ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই সিংহবাড়িতে কবি নজরুল : শতবর্ষ স্মরণোৎসব আয়োজন করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

 

তারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, অসহিঞ্চুতা ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্যে নজরুলের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর রচনা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়বোধ, ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নজরুলচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

Manual8 Ad Code

 

বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসবে।

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা হবে বলেও জানান তারা।

 

অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। উদ্বোধনী সংগীত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত । এতে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট। শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন ও বিজন কুমার রায়। এছাড়া ললিতকলা একাডেমি, সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য । সঙ্গীত নিকেতন সিলেটের পরিচালনায় ছিলেন প্রদীপ দে। এ পর্বে আরও পরিবেশিত হয় ‘সুর ও বাণী, সিলেট এবং ‘সুরের ভুবন, সিলেট’-এর পরিবেশনা। পরিচালনায় ছিলেন পদ্মীনী ইমন ও মনোজ কান্তি ভট্টাচার্য মান্না ।

 

নজরুল সংগীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. বর্ষা মজুমদার পাপড়ি ও অরুনিমা দাশ, আনন্দলোক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জ্যোতি ভট্টাচার্য্য, পরিচালক চারুবাক এবং সুকান্ত গুপ্ত পরিচালক শ্রুতি ।

 

দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় ‘নৃত্যরথ’। পরিচালনায় ছিলেন পপি দাশ। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ললিত মঞ্জুরী। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, জ্যোতির্ময় ধর সৌরভ, কী-বোর্ডে সুদীপ চক্রবর্তী এবং অক্টোপ্যাডে সুদীপ পাল, তবলায় প্রসেন রায়। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। এ পর্বে পরিবেশিত হয় স্বরচিত বন্ধনা। পরিবেশনায় ছিলেন, সিংহবাড়ির সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম প্রবাসী ড. শর্মিলা সেন ঊর্মি, একমাত্র কন্যা আনন্দী সেন ও একমাত্র পুত্র অনিরুদ্ধ সেন। তবলায় সহযোগিতা করেন ঊর্মির স্বামীর ড. অরিজিৎ সেন দীপ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সকলকে জলযোগে আপ্যায়িত করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে সিংহবাড়িতে কবি নজরুল শতবর্ষ স্মারক উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাসরি নজরুলের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন করুণ দাস কিরণ।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি ও শিল্পীদের উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

 

(সুরমামেইল/সংবাদবিজ্ঞপ্তি)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code