সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৯
সিলেটে অনেকদিন চাকুরী করেছি। আমার বিরুদ্ধে আমাদের ভোক্তা বা সেবাগ্রহীতা বা জনগনের যতটা না নালিশ ছিল তার চেয়ে হাজারগুন বেশী নালিশ ছিল আমার কলিগ বা আমার কর্তৃপক্ষের। প্রায় প্রতিদিন আমাকে জবাবদিহি করতে হতো আমার অফিসারদের কাছে। প্রতিটি মাসিক সভায় আমি ছিলাম আসামীর মতো। আমাকে একাই লড়তে হতো। মুষ্টিমেয় কিছু সিলেটি কলিগ আমাকে সাহায্য করতেন।
আমার বিরুদ্ধে আমার কলিগদের অভিযোগগুলি থাকতো এইরকম……..
* উনারা লাইসেন্স/হেলমেট না থাকার জন্যে মোটর সাইকেল থানায় নিয়ে যাচ্ছেন আমি বলছি মামলা করে ছেড়ে দাও।
* মহিলা বা শিশুযাত্রী গাড়ীতে ছিল, বা স্কুলগোয়িং বাচ্চারা গাড়ীতে ছিল, উনারা রিকুজিশন করবেন, আমি আপত্তি করেছি।
* একটা ধারায় মামলা দিলেই হয় কিন্ত উনারা আরো কয়েকটি ধারা লাগিয়ে দিবেন, আমি বাধা দিয়েছি।
* এয়ারপোর্টে বা লাক্কাতুরায় বা মালনীছড়ায় পরিচিত কোন ভাই-বোন বা বব্ধুরা ঘুরতে গেছেন। আর পুলিশ তাদের আলাদা আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করে হেনস্থা করছে, আমি তাদের ছাড়তে বলেছি।
* ভোরে স্টেশন থেকে আসছে বা যাচ্ছে আর পুলিশ তাদের আটকিয়ে সামারি না করা পর্যন্ত ফাঁড়িতে নিয়ে রাখছে, আর আমি ছাড়িয়ে আনছি।
* হোটেলে গিয়ে কাবিন নামা চেক করছে, আমি শুনে তাদেরকে বাধা দিয়েছি।
* চেকপোস্টে দেহ বা গাড়ী তল্লাশি না করে গাড়ীর কাগজপত্র চেক করছে আর সেই কারনে গাড়ী আটকিয়ে রাখছে, আমি ছাড়তে বলেছি।
* অফিসার বিহীন অন্যদেরকে কাগজপত্র চেক না করতে বলেছি।
* মাজার জিয়ারতে বা বেড়াতে আসা দুরের কোন বাস চালককে ছোটখাটো কারনে যেমন, নো পার্কিং, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার কারনে মামলা দিলে তারা আবার দূর থেকে এসে কস্ট করবে, তার চেয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে বলেছি। সবগুলি অভিযোগ ছিল এইরকম।
এমনও হয়েছে অনেকে দল বেঁধে গিয়ে বলেছেন, উনি থাকলে আমরা চাকুরী করবো না। আমার অফিসারেরা মাঝে মাঝে আমাকে বলতেন, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে বলছে কে? তোমার চাকুরী তুমি করো, ওরা ওদের কাজ করুক। নিজের জুরিডিকশনের বাইরে তুমি যেতে পারবা না। আমি তখন বলতাম, আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে আমার বন্ধু, বান্ধব, আত্বীয়স্বজনের প্রতি। যে এলাকায় চাকুরি করি সেই এলাকার মানুষের প্রতি, আমার স্ট্যাকহোল্ডারদের প্রতি, আমার ভোক্তাদের বা সেবাগ্রহীতার প্রতি, আর বিশেষ করে সিলেটিদের প্রতি আমার একটা সামাজিক কমিটমেন্ট তো আছেই। অবশ্যই আছে লজ্জা পাবার মানষিক নৈতিকতা। তাদের সাথে আমাদের প্রতিনিয়ত দেখা হচ্ছে, হবে। আজকে একটা অন্যায় করলাম একজনের সাথে কালকেই তার সাথে মসজিদে বা বিয়ে বাড়ীর কোনও দাওয়াতে দেখা হবে, তখন কি তার সামনে আমি ভাত খেতে পারবো? তখন আমার অফিসার বলেছিলেন, তুমি চাকুরী ছেড়ে রাজনীতি করো। ভালো করবা। আমি তখন বলেছিলাম, এমন একদিন আসবে, এইসব অপকর্মের জন্যে আপনাদেরকে প্রতিদিন আদালতে গিয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে। প্রতিদিন শিরোনাম হবেন। মানুষের ধিক্কারে সমাজে গিয়ে বড় চেয়ারটিতে বসতে লজ্জা পাবেন। আজ উনিও নেই। উনার বিচার অবশ্য আল্লাহ করে ফেলেছেন। আমিও সিলেটে নেই। আমি জানি না ভাইরাল হওয়া আমার বোনটির কান্না উনি শুনতে পাচ্ছেন কিনা, উনি বা আমাদের বব্ধুরা লজ্জা পাচ্ছেন কিনা?
লেখক : শাহরিয়ার বিপ্লব, পুলিশ পরিদর্শক, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি