বাংলাদেশি ধরা পড়লে কোর্টে নেবেন না, সীমান্তে পাঠিয়ে দিন: পুলিশকে শুভেন্দু

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৬

বাংলাদেশি ধরা পড়লে কোর্টে নেবেন না, সীমান্তে পাঠিয়ে দিন: পুলিশকে শুভেন্দু

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গে কোনো বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ ধরা পড়লে তাকে আদালতে না নিয়ে সরাসরি সীমান্তে বিএসএফের কাছে পাঠিয়ে দিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কলকাতার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি রাজ্য পুলিশ ও রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্সকে (আরপিএফ) এই নির্দেশ দেন।

 

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেই বুধবার রাজ্যে ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন-সিএএ কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু।

 

বুধবার রাজ্যের সচিবালয় ও প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নতে মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সিএএ অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে।

Manual7 Ad Code

 

“বিজিবির (বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী) সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত থানায় দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে আইন কার্যকর করলাম।’’

 

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন কলকাতার হাওড়া। প্রতিদিন বহু যাত্রী হাওড়া স্টেশন হয়ে যাতায়াত করেন। এ অবস্থায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ ধরতে হাওড়া স্টেশন চত্বরে কড়া নজরদারি রাখতে পুলিশ ও আরপিএফকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, “পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফকে বলে দেওয়া হয়েছে, সিএএর আওতায় পড়েন না এমন বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাকে কোর্টে পাঠাবেন না। তাকে ভালো করে খাওয়াদাওয়া করিয়ে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে, নইলে বসিরহাটে বিওপির (সীমান্ত চৌকি) কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।”

 

খবরে বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে এমন কত জন ‘অনুপ্রবেশকারী’ ধরা পড়ছে, সে হিসাবও নিজের কাছে রাখতে চাইছেন শুভেন্দু। ধরপাকড়ের সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে রাজ্য পুলিশ প্রধান মারফত মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে হবে।

 

ভারতে সিএএর আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে দেশটিতে যাওয়া ছয়টি জনগোষ্ঠীকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাদের তাড়িয়ে দেবে না।

Manual7 Ad Code

 

২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

 

আইনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। কোন কোন বিদেশি ভারতে ঢুকবেন, কীভাবে ঢুকবেন, কী নথি থাকলে তবেই ঢুকতে পারবেন, সে সব বিষয়ে ভারত সরকারের হাতে কী কী ক্ষমতা থাকবে, এই আইনে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বলা রয়েছে।

 

এই আইনেই বলা আছে, বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া কেউই ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না। আবার এই আইনেরই ৩৩ ধারায় সরকারের হাতে প্রভূত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিচার করে গেজ়েট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আইনের বিভিন্ন ধারায় যা বলা আছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকার দরকারে অদলবদল করতে পারবে।

 

পরিস্থিতি সাপেক্ষে কোনটা ‘ব্যতিক্রম’, তা-ও কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করতে পারবে। সেই আইন এ বার পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার কথা ঘোষণা করল বিজেপি।

Manual8 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

পশ্চিমবঙ্গে এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারপর্ব থেকেই বিজেপি বলে আসছে, তারা ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ রাজ্য থেকে তাড়াবে। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসতেই নিজেদের প্রতিশ্রুতি মত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code