‘বিজয়ের অহংকার- উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়’

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭

‘বিজয়ের অহংকার- উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়’

Manual5 Ad Code

আজ ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এইদিন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল তারিখ নয়, আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নির্বিশেষে সকল বাঙালীদের স্বপ্নমালা, আবেগঘন এ দিবস বছর ঘুরে আবারো ফিরে এসেছে সাড়ম্বরে।

Manual8 Ad Code

মহান বিজয়ের এই মুহুর্তে জাতি-দেশ, বাংলা ভাষা-ভাষি বিশ্বের অসণিত বাঙালীরা আজ সর্বাগ্রে স্মরণ করছে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ৩০ লক্ষাধিক শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধে যারা নিজের জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, সেই সব বীরদের।

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলার এই স্বাধীন মানচিত্র জিম্মি ছিলো সামরিক স্বৈরাচার এবং পাকিস্তানী সেবাদাস সহ রাজাকার আল বদরদের সহযোগী যোদ্ধাপরাধিদের কাছে। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে দেশের সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে পদানত করে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া, দেশরতœ শেখ হাসিনা। তখন থেকে আবার মহান মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা-চেতনায় দেশ পরিচালিত হতে থাকে। সরকার প্রশাসন ও মিডিয়ায় নিষিদ্ধ বঙ্গবন্ধু মুজিব আবার স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকেন।

Manual1 Ad Code

শেখ হাসিনার শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ও জনগণের স্বপ্ন আবার নতুন করে উজ্জীবিত হয়। দীর্ঘ ৪৬ বছর পেরিয়ে আজ আবার বাঙালী জাতি স্ব-মহিমায় মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শকে বক্ষে ধারণ করে সকল মৌলবাদী, উগ্রসাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পায়ের নিচে পিষ্ট করে প্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন হচ্ছে। স্বাধীনতা ও বিজয়ে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আবার ফিরে আসছে।

Manual2 Ad Code

১৯৭১’র ১৬ই ডিসেম্বর, যেদিন রেস্ককোর্স ময়দানে বাংলার দামাল ছেলেদের কাছে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সামনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আত্মসর্ম্পন করেছিলো, সেই ইতিহাস ২১ বছর পর্যন্ত ছিলো ডিপ ফ্রিজে বন্দি। ‘হানাদার’ শব্দটি উচ্চারণ করা যেতোনা এক সময়। সরকারী টিভি, রেডিওতে বঙ্গবন্ধু মুজিব ছিলেন একেবারে নিষিদ্ধ। পাতানো এবং আরোপিত ইতিহাস বানিয়েছিলো সে সময় বাংলাদেশে অবস্থানকারী পাকিস্তানী দালালেরা।

বিজয় দিবসের এই ৪৭তম মাহেন্দ্রক্ষনে আমরা স্মরণ করছি বাংলার সেসব দামাল ছেলেদের, যারা ক্ষেপা দুর্বাসার মতো মুক্তির উত্তুঙ্গঁ নেশায় একাত্তুরে বুলেট হয়ে ঘর ছেড়েছিলো। স্মরণ করছি তাদের, যাদের বুকের তপ্ত রুধিরে বাংলার জাতীয় পতাকায় রক্তিম সুর্যের উদয় হয়েছে। স্মরণ করি সেই মহান নেতাকে, যিনি বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের রচয়িতা। যিনি না হলে দেশটি স্বাধীন হতোনা। সেই একাত্তরে তিনিই ছিলেন একমাত্র অবিসংবাদিত নেতা। বাংলার সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিলো সবাই যোদ্ধা। সবাই সেই নেতার কর্মী। ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের এই মহান দিনে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুক্তিকামী অগণিত মানুষকে জানাই বিজয় শুভেচ্ছা। আর সমবেত কন্ঠে সবাই বলি, “বিজয়ের অহংকার, উগ্রসাম্প্রদায়িক শক্তি এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়।”

লেখক : সিনিয়র সহ-সভাপতি সিলেট রিপোর্টার্স ক্লাব ও নিউজ ইনচার্জ সুরমা মেইল ডটকম।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code