বিপদ সীমার উপরে সারী নদীর পানি, ৩ ইউনিয়ন প্লাবিত

প্রকাশিত: ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

বিপদ সীমার উপরে সারী নদীর পানি, ৩ ইউনিয়ন প্লাবিত

Manual4 Ad Code

সিলেটের জৈন্তাপুরে দু’দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলা ৩টি ইউনিয়ন নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নে আর্কস্মীক বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদ সীমার .৫৯ সেন্টি মিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে (বুধবার ১৩ জুন) সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে গত দু’দিনের আকস্মীক বর্ষণে এবং পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রাস্থের স্বীকার হয়েছে নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারগুলো। পাহাড়ী ঢলের ফলে তাদের পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে। কোনভাবে নিম্ন আয়ের মানুষেরা যত সামান্য আনন্দের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালনের প্রস্তুতি নিলেও আর্কস্মীক বন্যায় বাড়ী-ঘর তলিয়ে যাওয়ায় কারনে তাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিকাল ৫টা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বন্যায় আটকে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে ইফতার সামগ্রী, কিংবা শুকনো কোন খাবার উপজেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা পরিষদ থেকে পরিবারগুলোর মধ্যে পৌঁছায়নি।

এদিকে, বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের লোকজন নিজ উদ্যোগে নৌকা অথবা বেলায় করে ইফতার সামগ্রী সংগ্রহ করতে বাজারের দিকে ছুটে আসতে দেখা যায়।

অপরদিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন জনপ্রতিনিধিগণ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

সরেজমিনে বন্যা কবলিত এলাকা উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের মাহুতহাটি, দর্জীহাটি, মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মাস্তিং, হেলিরাই। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর। চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, লালাখালগ্রান্ট, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে সারীনদী, বড়গাং নদী এবং নয়া গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদসীমার .৫৯ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান, সারী-গোয়াইন বেড়ীবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো: আলা উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি থামলে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হবে।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বলেন, গত দু’দিন থেকে মুষলধারে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। আর এ টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে উপজেলায় অবস্থিত নদী, খাল ও বিলের পানি ফুসে উঠে মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহস্রাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অসহায় দিনমজুর ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

Manual2 Ad Code

এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে গেলে কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানায়, দপ্তরটিতে কেউ থাকে না। তবে, নিয়মিত হাজিরা দেখিয়ে মাঝে মধ্যে বিল উত্তোলন করতে অফিসের তালা খুলে থাকেন।

Manual4 Ad Code

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন ও জৈন্তাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মুনতাসির হাসান পলাশ বন্যায় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code