বিয়ানীবাজারের নাজিম হত্যা: সন্দেহভাজন খুনিরা নজরদারিতে

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৬

বিয়ানীবাজারের নাজিম হত্যা: সন্দেহভাজন খুনিরা নজরদারিতে

Manual2 Ad Code

12112

সুরমা মেইল নিউজ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এলএলএম-এর বি সেকশনের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ ও ব্লগার সন্দেহভাজন খুনিরা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া, তদন্তে আরও কিছু অগ্রগতি থাকলেও তদন্তের স্বার্থে ওই সব তথ্য বলতে রাজি হননি তারা।

Manual5 Ad Code

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা। শুক্রবার জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’-এর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম ঢাকায় নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্তের কাজ করছে দেশের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। যেকোনও সময়ে তারাও এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি জানাতে পারবেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তার ফেইসবুকেও ধর্মবিদ্বেষী গুরুতর কোনও মন্তব্য ও তথ্য পাওয়া যায়নি। তা হলে তাকে কারা, কী কারণে নির্মমভাবে হত্যা করলেন, সেই খুনিদের বের করাই এখন তদন্তের মুখ্য বিষয়।

Manual5 Ad Code

নাজিমুদ্দিন সামাদ- সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়কসম্পাদক এবং গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সুত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পর তার লাশ রাখা হয়েছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের হিমাগারে।

Manual7 Ad Code

নিহত নাজিমুদ্দিনের চাচাতো ভাই বদরুল হক বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে লাশ নিয়ে সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরা গ্রামে নিয়ে যান। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা আবদুস সামাদের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র সূত্রধর আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় তারা প্রকাশ করছেন না। তবে সন্দেহভাজন কয়েকজন খুনিকে তারা নজরদারিতে রেখেছেন। বিভিন্ন উপায়ে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই ও আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করতে তারা সক্ষম হবেন। নিহতের সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেলসহ ঘটনাস্থলের আশেপাশের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। তবে কাউকে এখনও আটক কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে থাকা বন্ধু সোহেল তাদের জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুত্রাপুরের ঋশিকেষ দাশরোডের একরামপুর মোড় অতিক্রম করার সময় পাশ থেকে দুই যুবক হেঁটে এসে নাজিমুদ্দিনের মাথায় কোপ দেন। এতে নাজিমুদ্দিন রাস্তার ওপর পড়ে যান। আতঙ্কে সোহেল দৌড়ে রাস্তার অন্যপ্রান্তে চলে যান। রাস্তা পার হয়ে সোহেল দেখেন ওই দুই যুবক ছাড়া আরও তিন যুবক নাজিমুদ্দিন ঘিরে ফেলেছে। এ সময় খুনিদের একজন পিস্তল বের করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নাজিমুদ্দিনের মাথায় পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে। এতে তার মাথার ডান দিকের খুলি উড়ে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মাথার মগজ।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code