ব্যাপক হারে হচ্ছে কপি : প্রয়োজন কপিরাইট আইন

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৭

ব্যাপক হারে হচ্ছে কপি : প্রয়োজন কপিরাইট আইন

Manual7 Ad Code

হাজার বছরের পৌরনিক লৌখিক বাংলা। হাওর-বাওর, আউল-বাউল আর মরমী কবিদের চারণভূমি হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মন বাড়িয়া, মৌলভী বাজার, নেত্রকোনা ও সিলেট। এই সাতটি জেলা নিয়েই হাওরাঞ্চল। সাংসদদের ভাষায় যাকে ভাটি অঞ্চল বলে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই হাওর অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি মানুষের বসবাস। কৃষি প্রধান এই বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিই আমাদের জাতীয় আয়ের মূল চালিকা শক্তি। এখানে স্বাধীনতাত্তোর থেকে ভাটির কৃষক বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। অনেক সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকিও দিয়েছে। কিন্তু আমাদের কৃষকের দুর্ভাগ্য যে, মন্ত্রাণালয় থেকে তৃণমুল পর্যায়ে এ টাকা পৌঁছতে পৌঁছতে মাঝ পথে এসে শেষ হয়ে যায়। স্ব-হৃদয় পাঠক বলেন তো এর জন্য দায়ী কে…………..?

Manual2 Ad Code

আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই কৃষকের জন্য স্থায়ী কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। যা-ই করেছে ‘ছেভ দিয়ে লেফ’ দেয়ার সামিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিলা বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে ভাটির কৃষক এখন প্রায় অসুস্থ। এক সময় গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ছিলো ভাটি অঞ্চলের মানুষের।

Manual2 Ad Code

এদিকে বৈশ্বিক জলবায়ূর পরিবর্তন আর ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য প্রায় বিলীন হতে চলেছে। অন্যদিকে সংরক্ষন ও সংগ্রহের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে মরমী ও সুফিসাধকদের পদাবলী, কিচ্ছা, পুঁথি, গীতি, জারি-সারী, ধামাই, ভাওয়াইয়া, পল্লী গীতি প্রভৃতি। তবে বিশ্বায়নের যুগেও মরমী কবিদের পদাবলী নন্দিত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

মাঝ পথে অন্য একটি প্রসঙ্গে আসতে হচ্ছে, নব্য কলামিষ্ট হিসেবে কিছু লেখকগন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রপত্রিকায় অন্য জনের লেখা কপি করে একজন কলামিষ্ট হিসেবে সমাজে জাহির করছে। এটা একটা সভ্য জাতির জন্য দু:সংবাদ। ল্যাথিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে এ প্রক্রিয়া কার্যকর নয়। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরণের কোনো আইন নেই।

Manual6 Ad Code

আমাদের দেশে অনলাইন ভিত্তিক সাংবাদিকতার ফলে চলমান সময়ে প্রায় ৯০ ভাগ সাংবাদিক কপি করে সংবাদ পরিবেশন করছে। যার ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া সুভতার বার্তা নিয়ে আসেনা। বর্তমানে যেভাবে কপি রাইট হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকতার মতো শিল্পে মেধাবী মানুষের সন্ধান পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এনিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে ভাবতে হবে।

এখন মূল বিষয়ে যেতে হচ্ছে, বিগত বোরো মৌসুমে দেশের উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের ৭টি জেলায় প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। একটি প্রবাদ আছে, ‘বারো মাসে তেরো পার্বন’ অর্থাৎ এই সুমানগঞ্জের বোরো ফসল দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের ৬ মাসের খাদ্য হয়। অথচ ওই এলাকার কৃষক-কৃষানি ফসল গড়ে তুলতে পারেনা, এর ব্যত্ত্বয় ঘটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারেণ। এ ধরণের পরিস্থিতিতে মান্যবর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তখন হাওর অঞ্চল সফর করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে বিভিন্ন ধরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু স্থানীয় সরকারদের অব্যবস্থাপনার কারণে কোনো সময়েই কৃষকরা সহযোগীতা পায়নি।

৩০টাকার চাল বর্তমানে ৬০/৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার যখন কৃষকের ঘরে মজুদ থাকে তখন কৃষক বাজার মূল্য পায়না। কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। এখানে কৃষকের মূল্যায়ন না হলে দেশের অর্থনীতির চাকা ভেঙ্গে পড়বে। এব্যাপারে সরকারকে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষককূলকে স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসবেন।

কপি রাইটের ব্যাপক প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে, তরিৎ গতীতে পর্যবেক্ষন করে এখনই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়কে এগিয়ে আসার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুবা কপি রাইটের কারণে ধ্বংস হবে মেধাবীদের মেধা ও মনন। গচ্ছা দেবে দেশ ও জাতি।

লেখক : রওশন জলিল কোরেশী, সম্পাদক ও প্রকাশক ভাটির শিকড়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code