ভূমিকম্প আতঙ্ক: শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ২৩ ভবন

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২৫

ভূমিকম্প আতঙ্ক: শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ২৩ ভবন

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীতে ভূমিকম্পে বারবার কেঁপে ওঠা চিহ্নিত ২৩টি বিপজ্জনক ভবন খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব পুরনো ভবন বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, নগরীর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২৩টি বিপজ্জনক ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো খুব শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ভবনই তালিকায় রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই অপসারণ শুরু হবে।

Manual4 Ad Code

 

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, এসব পুরনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো নেই। তীব্র কম্পনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা এগুলোতেই। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক মার্কেট এবং আবাসিক ভবন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফা ভূমিকম্পে সিলেটবাসীর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প। একই দিন সকালে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি কম্পন। শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত।

Manual1 Ad Code

 

স্থানীয় ও আঞ্চলিক ফল্ট সক্রিয় হয়ে ওঠায় সিরিজ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা। সিলেট ‘ডেঞ্জার জোন’-এ থাকায় বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

২০১৯ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন যে ২৪টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল, এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করে নিরাপদ করা হয়েছে। কিন্তু ১৮টি ভবন এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ আরও বেশ কিছু ভবন।

Manual2 Ad Code

 

তালিকার বাইরে আরও কিছু ভবন এরই মধ্যে অপসারণ বা সংস্কার করা হয়েছে- যেমন কালেক্টরেট ভবন-৩, বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, কিবরিয়া লজ, বনকলাপাড়ার নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর পাড়ের পৌর শপিং সেন্টার ইত্যাদি।

 

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, ভবনগুলোতে এখনও অনেকে বসবাস বা ব্যবসা করছেন, যা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরীর সংকীর্ণ রাস্তাগুলোর কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়। এতে রেসকিউ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

 

Manual6 Ad Code

দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল, হেলে যাওয়া দেয়াল, নড়বড়ে সিঁড়ি- সব মিলিয়ে বাসিন্দারা ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

 

২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী মেঘালয়ে বারবার ভূমিকম্প হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও বড় ধাক্কার ঝুঁকি অস্বীকার করা যায় না।


।আরও পড়ুন:


(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code