সিলেট ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
কাজী নুসরাত শরমীন : নির্লজ্জতারও একটা সীমা থাকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এতবড় একটা ভুলের পর তার কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর সাফাইমূলক একটি বাক্যও শুনতে আমরা প্রস্তুত নই। রাজাকারদের তালিকায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার দায়ভার নিয়ে তিনি বকে চলেছেন একের পর এক অন্তঃসারশূন্য দায়িত্বহীন বক্তব্য।
তিনি বলেছেন, ‘আমি মৌমাছির চাকে ঢিল মেরেছি! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পেনড্রাইভ করে যে তালিকা আমাদের নিকট দিয়েছে তা পরিবর্তন না করে আমরা হুবহু সেটি প্রকাশ করেছি।’ মাননীয়! আপনি তো মাছিমারা কেরানি নন! এই মন্ত্রণালয় যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে দেড় যুগ আগে পথচলা শুরু করেছিলো, তার একটি কাজও আপনি বা মন্ত্রণালয় করে দেখাতে পারেনি। এই দেশে যে একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো, যেখানে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে, তার দালিলীক প্রমাণ একাট্টা করা ছিলো আপনার মন্ত্রণালয়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যার ধারে কাছেও আপনি যাননি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নথিপত্র ছাড়া কেমন করে আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে আপনি প্রতিষ্ঠিত করবেন?
কিন্তু এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আপনাকে আজ নিজমুখে স্বীকার করতে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক প্রমাণ আপনি সংগ্রহ ও যত্ন কোনোটাই করেননি। করতে পারেননি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আর্কাইভস। জাতীয় জাদুঘরের ভাঙাচুরা আলমারিতে প্রায় ৩১ বছর ধরে অযত্ন অবেহেলায় পড়ে থাকা, নষ্ট ও অস্পষ্ট হতে থাকা নথিগুলো সংরক্ষণ করা আপনার কাছে জরুরি মনে হয়নি। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার মন্ত্রণালয় গত দেড় যুগে কোন সমন্বয় করার চেষ্টাও করেনি!
রাজাকারের তালিকা প্রকাশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেন ড্রাইভে দেয়া তালিকাই যদি প্রকাশিত হয়, তাহলে আপনার থাকার দরকার কী? আপনার মন্ত্রণালয় কী কাজে ৬০ কোটি টাকা খরচ করেছে, সেই জবাব তো আপনার দেয়া উচিত।
বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ১৪ হাজার বাড়ি নির্মাণ, স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষ উপলক্ষে আরও ১৫ হাজার বাড়ি নির্মাণ, আগামী বছর থেকে হেলথ কার্ড ইত্যাদি সুযোগ দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা আপনার মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে বা করবে সেখানেও কতবড় গোঁজামিল আসছে আল্লাহ্ মালুম। বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এই দেশ স্বাধীন করেছেন, আর কতদিনই বা তারা বাঁচবেন, তাদেরকে জাতির সামনে উপহাসের পাত্র বানাবেন না। শুধু ভুল স্বীকার করে তালিকা প্রত্যাহার করলেই আপনার অপরাধ মোচন হবে না, পদত্যাগ করুন।
লেখক : সাংবাদিক, কাজী নুসরাত শরমীন।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি