মৌলভীবাজারে নিহত দুই জঙ্গির পরিচয় সনাক্ত হয়নি এক মাসেও

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০১৭

মৌলভীবাজারে নিহত দুই জঙ্গির পরিচয় সনাক্ত হয়নি এক মাসেও

Manual7 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার পৌর শহরের বড়হাট জঙ্গি আস্তানায় সোয়াটের অপারেশন ম্যাক্সিমাস চলাকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হলেও অপর দুই জঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে এক নারী ও এক পুরুষ।

ঘটনার একমাস পরও দুই জঙ্গির পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। তবে নিহত দুই জঙ্গির ডিএনএ পুলিশি সংগ্রহে রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদরে ডিএনএ পর্যবেক্ষ করার মধ্যে দিয়ে পরিচয় শনাক্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অনান্য বাহিনীদের তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে জানান মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বরহাটে নিহত এক জঙ্গির নাম আশরাফুল আলম নাজিম। আরএফএলের এসআর পরিচয় দিয়ে ভাড়িটি ভাড়া নেয় সে। নাজিম সিলেটের আতিয়া মহলের পাশে বোমা বিস্ফোরণের সাথে জড়িত ছিল। ওই বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে: কর্ণেল আবুল কালাম আজাদসহ সাত জন।

জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম নাজিমের বাড়ি নোয়াখালির সোনাইমুড়ি উপজেলার কুমারখালি গ্রামে। নিহত জঙ্গি আশরাফুল আলম নাজিমের ছবি ও মরদেহ দেখে মা মনোয়ারা বেগম ও স্ত্রী পান্না বেগম গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকালে শনাক্ত করলেও দেশের বিরুদ্ধে ন্যাক্কারজনক কাজের সাথে যুক্ত থাকায় কলঙ্কিত মরদেহ গ্রহণে অনিহা প্রকাশ করলে ওই দিন রাতে বেওয়ারিশ হিসেবে মৌলভীবাজার পৌরসভার টিকরবাড়ী গোরস্তানে কবরন্থ করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

বড়হাটের ওই ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে চার এপ্রিল সকালে একটি মামলা দায়ের করে।

Manual5 Ad Code

এদিকে, বরহাট ও নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষেজ্ঞাসহ দুইটি বাড়িতে ২৪ ঘন্টা মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। লন্ডন প্রবাসী একই মালিকের দুটি বাড়ির এখনও মালিক পক্ষের আয়ত্বের বাইরে। পুলিশের বিষেশ টিম যে কোন দিন ঢাকা থেকে এসে শেষবারের মত আলামত সংগ্রহ করার পর মালিক পক্ষকে বাড়ি দুটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

Manual4 Ad Code

এ কারণে জেলা সদরের বরহাট ও নাসিরপুরে বিলাশবহুল বাড়ির আশপাশেও আসছে না স্থানীয় এলাকার কোনো মানুষ। দীর্ঘ একমাস অতিবাহীত হওয়ার পরও আতষ্ক কাটে তাদের। দূর থেকে ঝলক দেখা ছাড়া আর কোন সুযোগ নিতে চায় না তারা।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের বড়হাট ও নাসিরপুরে দুই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সোয়াত, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সিটিসিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Manual8 Ad Code

বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা সোয়াত দল প্রথমে নাসিরপুরের আস্তানায় অভিযান চালায় কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই দিন অপারেশন সমাপ্ত করতে পারেনি তারা। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) দিনভর অভিযান চালিয়ে সফল হয় সোয়াত। অভিযানের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হয় নারী-শিশুসহ ৭ জন।

Manual2 Ad Code

এরপর শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকালেই বড়হাটের আস্তানায় অপারেশন ম্যাক্সিমাস নামের আরেকটি অভিযান শুরু হয়। আলোকস্বল্পতার কারণে শুক্রবার অভিযানটি শেষ করতে না পেরে শনিবার (০১ মার্চ) সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু করে সফল হয় সোয়াট। অভিযানের কোনো একসময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড়হাটেও তিনজন নিহত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code