মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৮

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ

Manual2 Ad Code

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মনু নদের বাঁধ ভেঙে রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় মৌলভীবাজারের সঙ্গে সিলেট ও জেলার চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রোববার (১৭ জুন) সকাল থেকে পৌরসভাধীন বড়হাট এলাকায় মৌলভীবাজার-সিলেট রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি মানুষ।

Manual2 Ad Code

এছাড়া ভাঙনের পানিতে কুসুমবাগ এলাকায় দুটি ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুটি খাদ্যগুদামে পানি উঠেছে। এ চারটি গুদামে ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন চাল ও ৪২৪ মেট্রিক টন গম রয়েছে। গুদামে রক্ষিত বস্তার তিন থেকে চারটি স্তর পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী  বলেন, ‘রাত থেকেই গুদাম এলাকাতে আছি। এ অবস্থায় পানি বেশিক্ষণ থাকলে চাল-গম নষ্ট হয়ে যাবে। আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

এর আগে, শনিবার (১৬ জুন) মৌলভীবাজার-রাজনগর-সিলেট রোডের রাজনগর উপজেলাধীন কদমহাটা এলাকায় বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে এই রোডে যান চলাচল বন্ধ করা হয়।

এছাড়া জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। নৌকা দিয়ে পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজ চলছে।

Manual1 Ad Code

এদিকে, মনুর বাঁধ ভাঙায় মৌলভীবাজার শহরের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড ও ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখের উপর মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ক্রমাগত পানি গড়াচ্ছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। শহর ও শহরতলীর বাসাবাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানিতে ডুবে আছে। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করেছে।

জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনও পানি রয়েছে। সেনাবাহিনী বন্যার্তদের সহযোগিতায় কাজ করছে।

Manual4 Ad Code

এদিকে দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের ভেতরে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য কুসুমভাগ এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তা দিতে দেয়নি। এলাকাবাসীর দাবি এখানে বাঁধ দিলে তারা আরও পানিতে তলিয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। শহরের বাইরে থেকে নৌকা এনে পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজ চলছে। শহরে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। সেখানে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। উপজেলাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাতে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়ায় সরকারি খাদ্য গুদামের ভেতর প্রায় দুই হাজার মেট্রিকটন চাল ছিল, তা উদ্ধার করা যায়নি। কিছু চাউল উদ্ধার করা হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় এই চাল নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code