যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২

যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যৌতুকের টাকা না পেয়ে হাত-পা বেঁধে বটি দা দিয়ে স্ত্রী রাজনা বেগমের গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক স্বামী জাকারিয়া। এ হত্যাকান্ডের ৪ দিনের মাথায় ঘটনার রহস্য ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯, হবিগঞ্জ।

Manual3 Ad Code

 

শুক্রবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-৯ মিডিয়া অফিসার সোমেন মজুমদার।

Manual1 Ad Code

 

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রাজনা বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার (০২ ফেব্রুয়ারি) নিহতের ভাই সুফি মিয়া নবীগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৪; তারিখ- ২/২/২০২২ইং।

Manual7 Ad Code



মামলা দায়ের পর হত্যা রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৯ গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রধান আসামি নিহতের পলাতক জাকারিয়াকে বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। সে নবীগঞ্জ উপজেলার বড় আলীপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে।

 

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে। সে পেশায় একজন সিএনজি চালক এবং ভিকটিমের সাথে ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছর পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সিএনজি কেনার কথা বলে যৌতুকের টাকার জন্য আসামী ভিকটিম এবং ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিককতায় গত ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় যৌতুকের টাকার জন্য প্রথমে সে তার স্ত্রীর হাত-পা ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে; ভয়-ভীতি দেখায় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরে তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করে এবং সিএনজি কেনা বাবদ টাকা না দিলে সে তার স্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

 

শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকা দিতে রাজী না হওয়ায়; হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সে তার স্ত্রীর মুখ ওড়না দিয়ে বেধে ফেলে; যাতে চিৎকার করতে না পারে এবং রান্না ঘরের ধারালো বটি-দা দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করে ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পালিয়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকায় নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে সে তার একসময়কার কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জের লতব্দী এলাকার ইট ভাটায় আত্মগোপনে চলে যায়। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় তাকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার লতব্দী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত আসামীকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওই মিডিয়া কর্মকর্তা।

Manual2 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code