সিলেট ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
লোডশেডিং, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আটক অন্য দুজন হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য মীরজা সুমন ও রকি।
আয়োজকদের ভাষ্যমতে, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা নিরসনের দাবিতে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল আয়োজক সংগঠনটি। তবে মিছিল শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ওসি বলেন, প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে আয়োজকেরা জড়ো হলে ঘটনাস্থল থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’- এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’
ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
(সুরমামেইল/এমএকে)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি