সিলেট ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১
সুরমা মেইল ডেস্ক : হাত, পা, মাথা- সব আলাদা। তবে একটাই পেট, নেই কোনো পায়ুপথ। এমন শারীরিক গঠন নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জন্ম নিয়েছে দুই শিশু।
নবজাতকদের একটি ছেলে, একটি মেয়ে। বাচ্চা দুটির মায়ের নাম আঙ্গুরি বেগম (৩৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৫টায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়।
দুপুর ২টার দিকে আঙ্গুরি বেগম ও তার দুই সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তারা গ্রামের বাড়ি ফিরে গেছেন। শিশু দুটির এমন শারীরিক গঠন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে তাদের হাসপাতালের গাইনি ইউনিট-২ এর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে আঙ্গুরি বেগম তখন ঘুমাচ্ছিলেন। শিশু দুটিকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন তাদের নানি আনোয়ারা বেগম। তিনি কাঁদছিলেন। হাসপাতালে শিশু দুটিকে দেখতে অন্য রোগীর স্বজনরা ভিড় করছিলেন। এসেছিলেন আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই।
স্বজনরা জানান, প্রসবের ব্যাথা শুরু হলে রোববার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আঙ্গুরি বেগমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তখন আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসক জানান, এখানে তার কিছুই করা সম্ভব না। তারা তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রাত ২টার সময় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ভোরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এ দুই শিশুর জন্ম হয়।
আনোয়ারা বেগম জানান, শিশুদের দুটি করে হাত ও পা আছে। মাথা-মুখমণ্ডলও আলাদা, কিন্তু পেট একটাই। পায়ুপথ বোঝা যাচ্ছে না। বাচ্চা দুটির লিঙ্গও স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, বাচ্চা দুটির একটি ছেলে এবং অন্যটি মেয়ে।
আনোয়ারা বলেন, ‘তার মেয়ের ১৮ বছর বয়সী একটা ছেলে আছে। আরেক ছেলের বয়স ১৫ বছর। একটা মেয়ের আশায় বাচ্চা নিয়েছিলেন আঙ্গুরি বেগম। তার মেয়ে হলো, কিন্তু বুকে বাধা আরেক ছেলে। গরিবের সংসার। কী হবে জানি না।’
বাচ্চা দুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে চাননি হাসপাতালের গাইনী ইউনিট-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক নার্গিস শামীমা স্বপ্না।
তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, একই পেট নিয়ে দুটি জমজ বাচ্চার জন্ম হয়েছে। তাদের কোনো পায়ুপথ নেই। পায়ুপথের জন্য সার্জারির প্রয়োজন। সে কারণে বাচ্চা দুটিকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি