সিলেট ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে, প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালতে তোলার সময় গণপিটুনি দিয়েছেন উপস্থিত উৎসুক জনতা। তবে কে বা কারা মারধর করেছে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিলেটের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দার আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে প্রধান আসামি জাকির হোসেন, তার ভাই জয়নাল আবেদীন ও আব্দুল কালামের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার দুই আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী বিচার কার্যক্রমের জন্য আগামি ১ জুলাই থেকে শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সিলেটের শিশু আদালতে এ মামলার অন্যতম আসামি জাকির হোসেনকে আদালতে তুলা হয়। এ সময় আদালত আসামি জাকিরসহ তার দুই সহোদরের বিরুদ্ধে অভিযোগগঠন (চার্জগঠন) করে পলাতক তার ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
তিনি বলেন, পলাতক আসামি জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসামি জাকিরকে আদালতে মারধর করা হয়েছে এ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি জাকিরকে আদালতে তুলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করেছে।
জানা গেছে, সিলেটে আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৩৩ দিনের মাথায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
গত ১১ জুন দুপুরে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসএমপি জালালাবাদ থানার এসআই নূর উদ্দিন ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে দুইটি আলমত রেখে মোট ২১ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত জাকির হোসেনসহ ৩ জনের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে। অভিযুক্তরা নিহত ফাহিমার সম্পর্কে চাচা। বর্তমানে প্রধান আসামি জাকির হোসেন কারাগারে থাকলেও অপর তার দুই সহোদর পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারর পর সিলেট হাকিম আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার দায় স্বীকার কওে লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সংসদের বিরোধী দলয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমাদের বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সিলেট শিশু ও সংহিসতা আদালতে এ মামলার আলোচিত অন্যতম আসামি জাকির হোসেনসহ তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে আগামি ১ জুলাই থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে আসামীকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি জাকিরকে আদালতে মারধরের বিষয়টির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
(সুরমামেইল/এমকে)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি