‘সারা দেশে যৌথ বাহিনীর কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং’

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫

‘সারা দেশে যৌথ বাহিনীর কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং’

Manual2 Ad Code

সুরমামেইল ডেস্ক :
সন্ধ্যা থেকে সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যৌথ বাহিনীর কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং চলবে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

প্রেস সচিব বলেন, কোর কমিটির মিটিংটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ যেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, সেসব স্থানে টহল বাড়ানো হবে। টহল সোমবার সন্ধ্যা থেকে দেখা যাবে। এটার জন্য কম্বাইন্ড প্যাট্রল করা হবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী-এরা সবাই একসঙ্গে কম্বাইন্ড প্যাট্রল করবে। অনেক স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে।

 

প্রেস সচিব বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারক করা হবে। একই সঙ্গে ইন্টেলিজেন্ট জোরদার করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দারা তাদের নিজেদের মতো করে তদারকি জোরদার করবে।

 

প্রেস সচিব আরও বলেন, তীব্র যানজটের কারণে কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ঘটনা ঘটলে সেখানে যেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেরি হচ্ছে। এ জন্য তাদেরকে প্রচুর মোটরসাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; যাতে তারা খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে।

 

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কতগুলো মোটরসাইকেল কেনা হচ্ছে- জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, পুলিশের জন্য ১০০টি মোটরসাইকেল কেনা হচ্ছে। পরে আরও ১০০টি নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত অন্যদের জন্যও আরও ৫০টি মোটরসাইকেল কেনা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

 

কোর কমিটির বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি দিনের পুরো পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ সবাই উপস্থিত ছিলেন। এখানে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নেভি, কোস্ট গার্ড এবং বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্ট এজেন্সি ছিল। সবাই মিলে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

কম্বাইন্ড প্যাট্রলিং কি শুধু ঢাকা সিটির জন্য, নাকি সারা দেশে পরিচালিত হবে- জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, ঢাকাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে আগে দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।

 

নির্দিষ্ট কোনো স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো উদ্বিগ্ন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে বলেই মিটিংটা হয়েছে। এখানে সবাই ছিলেন, যাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সবার প্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিটি সংস্থার চিফরা এসেছেন। একটা হাই-লেভেলের সভা হয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো থেকে কোনো অসহযোগিতা দেখেছেন কি না জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, এ রকম কিছু দেখছি না। আমাদের চাহিদা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব উন্নত করা। কারণ, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের।

 

Manual6 Ad Code

হঠাৎ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন হলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আমরা বলছি তো আমরা ইন্টেলিজেন্ট গ্যাদার করছি। আজকে তাঁদের প্রতিনিধিও ছিলেন, তাঁরা আরও ডিটেইল রিপোর্ট দেবেন। আমরা গুরুত্বসহকারে এগুলো মনিটরিং করছি। আশা করছি, আপনারা দৃশ্যমান উন্নতি খুব দ্রুত দেখতে পাবেন।

 

কক্সবাজার ইস্যুতে আজকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, কক্সবাজারে এসপি ও সিকিউরিটি এজেন্সি আছে, তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাচ্ছি, তারা আমাদের দিলে আপনারা জানতে পারবেন।

 

শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সভায় প্রথম সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা এবং যে সকল জায়গায় আমরা দেখছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে, সেসব জায়গায় টহল বাড়াব। এই টহল আজকে সন্ধ্যা থেকে আপনারা দেখবেন। পুরো ঢাকা শহরেই দেখবেন। এ জন্য যে জিনিসটা করা হচ্ছে, যৌথ টহল হবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ টহল হবে। জায়গায় জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করা হবে। তল্লাশির ব্যবস্থা করা হবে।

 

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, আমাদের ইন্টেলিজেন্স উইং, ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি- তারা তাদের মতো করে নজরদারি করবে। সেই অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনে যাব।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual2 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code