সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করুন : সংসদে এমপিরা

প্রকাশিত: ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করুন : সংসদে এমপিরা

Manual5 Ad Code

সুরমা মেইল ডেস্ক : শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হওয়ায় গৃহস্থালি কাজের জন্য সৌদি আরবে নারী জনশক্তি পাঠানো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি ও গণফোরামের কয়েজজন এমপি। জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার খুবই চিন্তিত।

 

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ ও মুজিবুল হক চুন্নু এবং গণফোরামের এমপি সুলতান মনসুর আহমেদ পৃথকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন। বিদেশে, বিশেষ করে সৌদি আরবে নারীশ্রমিক পাঠানো প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা আমাদের মা বোনদের নিয়ে ব্যবসা করতে পারি না। দেশটা তলাবিহীন ঝুড়ি না, কেন নারীশ্রমিক বিদেশে পাঠাতে হবে? এটা বন্ধ করুন অবিলম্বে।’

 

কাজী ফিরোজ রশীদ আরো বলেন, ‘মা-বোনদের পাঠিয়ে দিয়ে দেশ বিক্রির টাকার প্রয়োজন নেই। মা-বোনদের ইজ্জত বেচে আমাদের টাকার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের ইজ্জত বিক্রি করতে পারি না।’

 

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘প্রবাসী ও বৈদেশিক মন্ত্রীদের দায়িত্বটা কী? আমাদের দেশের মা-বোনদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে, নানা রকম অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হয়ে অবশেষে তারা লাশ হয়ে ফিরে আসে। এ যাবত ছয়-সাতশ মানুষ লাশ হয়ে ফিরে এসেছে। তাদের সবার ময়নাতদন্তে লেখা থাকে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। ওখানে যে ময়নাতদন্ত হয় তা বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি পর্যন্ত দেখে না। এখানে অ্যাম্বাসি কোনো পদক্ষেপ নেয় না বৈদেশিক মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয় না। রিক্রুটিং এজেন্টরা, দালালেরা নারীদের পাঠিয়ে খালাস। আমরা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে ব্যবসা করতে পারি না। এটা স্বাধীন দেশ। আমাদের সম্মান আছে, ইজ্জত আছে। মাত্র কয়েকটি টাকার জন্য আমরা এ কাজ করতে পারি না। আমাদের দেশটা এখন আর অত গরিব না। আমরা তো তলাবিহীন ঝুড়ি না। কেন নারী শ্রমিক  পাঠাতে হবে? এটা বন্ধ করুন অবিলম্বে।’

 

Manual2 Ad Code

ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘মাঠের বক্তৃতা সুন্দরই শুনলাম। কথা হলো মন্ত্রী কিছু জানে না বা মন্ত্রী কিছু করে না বা ওই মন্ত্রণালয় কিছুই করে না বক্তৃতাটা ওই মাঠের বক্তব্যর মতোই। আমি হাউজকে জানাতে চাই এই যে বিভিন্ন নারী ওইখান থেকে লাশ হয়ে আসছে আর যারা নির্যাতিত হয়ে আসছে, গত কয়েক মাসে অনিয়মের কারণে ১৬০টির এজেন্সির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তিন কোটি টাকার বেশি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশি রিক্রুট এজেন্সিদের কাউন্টার পার্ট রয়েছে সৌদিতে, সেখানকার দায়িত্বরতদের বিস্তারিত জানাতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য। তাদের যে পার্টনার আছে তাদের বিস্তারিত দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণের পরে নারী কর্মীদের প্রেরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি মনে হয় যে এটি পুরোপুরি অসম্ভব তবে আমরা নারী কর্মীকে (সৌদি) না পাঠানোর চিন্তা করব।’

 

ইমরান আহমেদ বলেন, ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সের সাথে সাক্ষাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি তোলার জন্য। আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর জয়েন্ট টেকনিক্যাল গ্রুপের একটি বৈঠক সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও এই প্রশ্নগুলো তোলা হবে।’

 

পনির উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে মধ্যপাচ্যের দেশে মহিলা কর্মী পাঠানো হয়েছে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৮৪২ জন। এসব নারী কর্মীদের প্রতারণা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ মিশনগুলোর শ্রম উইং থেকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

Manual2 Ad Code

 

মো. হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মী মারা গেলে সাধারণত নিয়োগকর্তার খরচে মৃতদেহ দেশে আনা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আনা সম্ভব না হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে সেসব কর্মীর মৃতদেহ দেশে আনা হয়। এমনকি অবৈধ কোনো নাগরিক বিদেশে মারা গেলে তার লাশ ও সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করে থাকে।

 

মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমেদ বলেন, ‘মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে যাওয়ার পর কেউ যেন অসাধুদের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপে না যায় সেজন্য এর কুফল ও ভবিষৎ পরিণতি সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন করা হয়।’

 

মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘চার ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিশ্বের ১৭৩টি দেশে কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব শ্রমিক, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ।’

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code