হাসপাতাল আছে- ডাক্তার নেই; ১৫ বছরেও কাটেনি তালা-রহস্য!

প্রকাশিত: ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬

হাসপাতাল আছে- ডাক্তার নেই; ১৫ বছরেও কাটেনি তালা-রহস্য!

Manual3 Ad Code

​হেলাল আহমেদ, দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে:
​সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরবেষ্টিত জনপদ জগদল। এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি আর স্বপ্নের ফসল ছিল ‘জগদল ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’। চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই স্থাপনাটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক মস্ত বড় পরিহাসের নাম। দীর্ঘ দেড় দশক আগে ঘটা করে উদ্বোধন করা হলেও আজ পর্যন্ত হাসপাতালের তালা খোলেনি। জাঁকজমকপূর্ণ সেই উদ্বোধনী ফলকটি এখন কেবলই এক দীর্ঘশ্বাসের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

 

​স্বপ্নের শুরু ও থমকে যাওয়া বাস্তবতা-​২০১৩ সালে যখন তৎকালীন মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন, তখন জগদল, কুলঞ্জ, কলকলিয়া ও দুর্গাপাশা এবং পশ্চিম বীর গাও ইউনিয়নের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি গ্রামের মানুষের চোখে ছিল আনন্দের জল। তাদের আশা ছিল, এখন আর মুমূর্ষু রোগী নিয়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে দিরাই সদরে যেতে হবে না। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। জনবল নিয়োগের ফাইল আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি হয়ে থাকায় গত ১৫ বছরেও এই হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা নার্সের পা পড়েনি।

Manual7 Ad Code

 

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলছে মরচে ধরা বিশাল এক তালা। জানালার কাচগুলো ঢিল খেয়ে ভেঙে চুরমার হয়ে আছে। ভবনের দেয়ালে জন্মেছে আগাছা আর শেওলা। ভেতরে থাকা দামী আসবাবপত্র ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ধুলোর আস্তরণে ঢেকে অকেজো হয়ে পড়ছে। ভবনটির বর্তমান দশা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি মানুষের সেবার জন্য নির্মিত একটি আধুনিক হাসপাতাল।

 


​বর্ষায় চারদিকে পানি আর শুকনো মৌসুমে কর্দমাক্ত পথ—যোগাযোগের এই চরম দুর্ভোগের কারণে স্থানীয় ৬০ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা এখন স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তাররা। জরুরি প্রয়োজনে বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে হলে এখনো পোহাতে হয় অমানবিক কষ্ট।

 

​স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের কপালটাই খারাপ। চোখের সামনে চার কোটি টাকার হাসপাতাল পচতাছে, আর আমরা বিনাচিকিৎসায় মরতাছি। সরকার ভবন বানাইল, কিন্তু আমাগো লাইগা একটা ডাক্তার পাঠাইল না।’

 

Manual7 Ad Code

​দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ ১৩টি পদের একটিতেও এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জনবল চেয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আফজাল হোসেন জানান, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন কিন্তু নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

​এলাকাবাসীর প্রশ্ন ১৫ বছরেও কি একটি হাসপাতালের জন্য জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ‘তালা-রহস্য’? সরকারি অর্থের এমন অপচয় আর সাধারণ মানুষের জীবনের এই অবহেলার শেষ কোথায়?

Manual7 Ad Code

 

​জগদলবাসীর এখন একটাই দাবি, অতি দ্রুত এই হাসপাতালের তালা খুলে দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক এবং এই ১৫ বছরের অবহেলার দায়ভার নির্ধারণ করা হোক।

Manual1 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code