সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০১৮
সুনামগঞ্জের ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। টানা বর্ষণে উপজেলার নুতন-নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি অন্তত বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটিার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। গ্রামীন কাঁচা-পাকা রাস্তা, ব্রিজ বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা বা ত্রান সামগ্রী বিতরণের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই, এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, কালারুকা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

ছাতক-দোয়ারা, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া ছাতক শহর, ছাতক সদর, কালারুকা, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, উত্তর খুরমা, দক্ষিন খুরমা, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি ১শ’ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ডাইকি, বটেরখাল ও বোকা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রবল বর্ষনে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীতে পাথর ও বালুবাহী বার্জ-কার্গো ও বাল্কহেড নৌকায় লোডিং-আনলোডিং বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি ষ্টোন ক্রাসার মিল, পোল্ট্রি ফার্ম ও মৎস্য খামারে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। শাক-সবজির বাগানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে কৃষকদের।
ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ি-রতনপুর সড়ক, ছনবাড়ি-গাংপাড়-নোয়াকোট সড়ক, কালারুকা ইউনিয়নরে মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, আমেরতল-ধারন সড়ক, পালপুর-খুরমা সড়ক, বেরাজপুর রাস্তা, বোকারভাঙ্গা-সিরাজগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার অনেক সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। জামুরা, চানপুর, নোয়াগাঁও, ভাসখলা, করচা, গোয়ালগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৈশাকান্দি এফআইভিডিবি স্কুল, নোয়ারাই ইউনিয়নের চরভাড়া মাদ্রাসা, লামাপাড়া ব্র্যাক স্কুলে বন্্যার পানি প্রবেশ করেছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের রতনপুর, নিজগাঁও, গাংপাড়, নোয়াকোট, বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর, ছৈদাবাদ, রহমতপুর, দারোগাখালী, পৌরসভার হাসপাতাল রোড, শাহজালাল আবাসিক এলাকা, কানাখালী রোড, শ্যামপাড়া, মোগলপাড়া তাতিকোনা, বৌলা, লেবারপাড়া নোয়ারাই ইউনিয়নের বারকাহন, বাতিরকান্দি, চরভাড়া, কাড়–লগাঁও, লক্ষীভাউর, চানপুর, মানিকপুর, গোদাবাড়ী, কচুদাইড়, রংপুর, ছাতক সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ী, আন্ধারীগাঁও, মাছুখালী, তিররাই, মুক্তিরগাও, কাজীহাটা নোয়াগাও, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের পীরপুুুুর, নোয়াগাঁও, বাউভুগলী, বেরাজপুর, জলালপুর, বীলপাড় উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল, ঘাটপার, গদারমহল, রুক্কা, মৈশাপুর, ছোটবিহাই, এলঙ্গি, রসুলপুর, শৌলা, চরমহল্লা ইউনিয়নের ভল্লবপুর, চুনারুচর, চরচৌলাই, হাসারুচর, প্রথমাচর, সিদ্ধারচর, চরভাড়ুকা, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হরিশ্বরণ, হাতধনালী, রাউতপুর, ধনপুর, চৌকা, রামচন্দ্রপুর, খুরমা, হলদিউরা, কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, মালিপুর, দিঘলবন, আরতানপুর, রংপুর, মুক্তিরগাও, ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, মহদী, গোবিন্দগঞ্জ পুরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। যেসব বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিন চন্দ্র রায় জানান, কয়েকটি বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। তবে, বন্যা পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি