জৈন্তাপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৮

জৈন্তাপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়

Manual8 Ad Code

কোচিং ফি’র অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে না কোনো রশিদও। এতে বিপাকে পড়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

Manual5 Ad Code

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা হলে তারা অবিযোগ করে বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানশিক্ষকের যোগসাজসে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্তা নেয়নি প্রশাসন। আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ চলাকালীন এ বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

Manual2 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে, ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোচিং কিংবা অতিরিক্ত ক্লাস করানোর অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি এক থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।

সরজমিনে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি, স্কুলের উন্নয়ন ও কোচিং ফি জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ৪ মাসের বেতন বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ ৩ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া নির্বাচনি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে জামানত নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, স্কুলের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমাদের ফরম পূরণ করতে হয়। কিন্তু ফরম পূরনের টাকা পরিশোধ করলেও রশিদ পাচ্ছি না।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা পরিবার থেকে টাকা নিয়ে আসি কিন্তু ফরম পূরনের টাকা জমা দিয়ে গেলেও অভিভাবকদের টাকা জামাদানের রশিদ দেখাতে পারি না। অনেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরনের টাকা পরিশোধের জন্য অভিভাবকরা মহাজনের নিকট হতে চড়া সুধে অথবা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে ফরম পূরনের টাকা পরিশোধ করছেন বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবকরা জানান, একই উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে অতিরিক্ত ফি আদায়ে লিপ্ত রয়েছে। তাদের এহেন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে নিজেদের সন্তাদের ক্ষতি হবে, এই ভয়ে আমরা মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছি। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা বলছেন, যদিও সরকারে উচ্চ পর্যায় হতে বার বার কোচিং বাণিজ্য ও অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে তা কোন ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না মন্তব্য তাদের।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩৫০০ টাকা টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া সারাদেশে এবার ফরম পূরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাঠে নেমেছেন। নির্ধারিত ফি’র বাড়তি টাকা আদায় করলেই দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬-এ অভিভাবকদের জানানোর জন্য বলা হয়েছে। অথচ এতো কড়াকড়ির পরও এই উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই ফরম পূরণ চলাকালীন কোচিং কিংবা অতিরিক্ত ক্লাসসহ বিভিন্ন ফি’র অজুহাতে টাকা আদায় করছে।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে জানতে হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজির আলী সরকার জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ৩১০০ টাকা, মনবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে ফরম পূরনের ১৮৫০ টাকা, ২ মাসের কেচিং ফি ৮০০ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা। আগামী ২০১৯ সনের জুন মাস পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় করাছি। ব্যবহারিক খাতার জন্য ১০০টাকা, ইন্টারনেট খরচ ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের আরও বিভিন্ন খাত আছে এই কারণে আমরা রশিদ দিতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন চন্দ্র বিশ্বাস ও জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা জাফরিন বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে ৩২০০টাকা এবং মনবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ৩১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে ২ মাসের কেচিং ফি ১ হাজার টাকা ও ২০১৯ সনের জুন মাস পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় করছি। টিফিন খরচ ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের যৌথ মতামতের ভিত্তিত্বে বোর্ড ফির অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফরম পূরণের পাশাপাশি কোচিং ও অতিরিক্ত ক্লাসসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি বাড়তি ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলেমান হোসাইন এর সাথে ফোন আলাপ করলে তিনি বলেন, কোন ভাবে অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না। তারপরও কোন বিদ্যালয় অতিরিক্ত ফি আদায় করলে আমি কিছু জানিনা। আমার সাথে হরিপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আছেন উনার সাথে কথা বলেন। সরকারি নির্দেশনাটি আমি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষদের কাছে পৌছে দিয়েছি যাতে কেউ অতিরিক্ত ফি আদায় না করে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইন আনুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code