সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৯
ম্যালেরিয়াকে একসময় কেবল পার্বত্যাঞ্চলের রোগ মনে করা হতো। তবে এখন সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বলছে, পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলেও ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত এ রোগ। বর্তমানে সিলেট বিভাগের ৪টিসহ ১৩ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি।
বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস সামনে রেখে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয় ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী এলাকা, পাহাড় ও বনাঞ্চলবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর প্রায় ৯১ শতাংশই এ এলাকার। তবে এ তিন জেলা ছাড়াও আরো ১০ জেলায় মশাবাহিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম। এ অবস্থায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সমতলের যে এলাকাগুলো ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে আছে, তার মধ্যে সিলেট বিভাগের ৪টি জেলাই রয়েছে। এগুলো সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেকে পাশের দেশ ভারতে কাজ করতে যান। অনেকে সেখান থেকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
সারা দেশে যত মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, তার ৬০ শতাংশ বান্দরবানের।
ম্যালেরিয়া বাংলাদেশের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের নেয়া জাতীয় কর্মসূচি ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার কমাতে ভূমিকা রাখছে। গত এক দশকে বেশ সফলতাও এসেছে। ২০০৮ সালে দেশে ৮৪ হাজার ৬৯০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ওই বছর এ রোগে মারা যায় ১৫৪ জন। এর এক দশক পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ১০ হাজার ৫২৩ জনে নেমে এসেছে এবং মারা গেছে সাতজন। তবে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চলতি বছর ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। আর্দ্র অবস্থার সঙ্গে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে গত বছরের তুলনায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি এ বছর বেশি।
রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, গত এক দশকে দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। তবে চলতি বছর আগাম বৃষ্টির কারণে এবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশ এগিয়েছে। সংক্রামক রোগ মোকাবেলা করে এখন অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তার পরও ম্যালেরিয়ায় এখনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর বড় কারণ পার্বত্য এলাকাগুলো দুর্গম হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগ নির্ণয় করা যায় না। একই কারণে সেখানে চিকিৎসা দেয়াও দুঃসাধ্য।
দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সময়মতো চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন হলেও সমতলে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সমতলের যে ১০টি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে, তা একসঙ্গে নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ, প্রত্যেকটি অঞ্চলে জনগোষ্ঠীর ধরন ও শরীরের বৈশিষ্ট্য আলাদা।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান বলেন, সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়া স্ক্রিনিং ও ওষুধের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষই আমাদের এ সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারে না। সেটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি