কানাইঘাটে সিলেটের সর্ববৃহৎ মৎস্য খামার গড়ে তোললেন প্রবাসী

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

কানাইঘাটে সিলেটের সর্ববৃহৎ মৎস্য খামার গড়ে তোললেন প্রবাসী

Manual7 Ad Code

মুমিন রশিদ, কানাইঘাট : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোকালয় থেকে অনেক দূরে বীরদল বড় হাওরে অবস্থিত এক আরব আমিরাত প্রবাসী তার নিজ অর্থায়নে সিলেটের মধ্যে সর্ববৃহৎ বড় মৎস্য খামার গড়ে তোলেছেন।

Manual2 Ad Code

 

এএইচ ফিসারীজ ফার্ম নামে কানাইঘাটের বড়দেশ নয়াগ্রামের আরব আমিরাত প্রবাসী আবুল হাই হাওর এলাকায় অবস্থিত অনাবাদি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক বছরের জন্য ইজারা, ইজমালী সম্পত্তি এবং অনেক জমি ক্রয় করে প্রায় ৩শ’ একর জমিতে ২০১৬ সালে বিশাল আকারের ৩টিসহ আরো কয়েকটি মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। মৎস্য খামার করতে সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন প্রবাসী আব্দুল হাই।

 

সিলেট জেলার মধ্যে অন্যতম বড় এ মৎস্য খামার দেখতে অনেক মানুষ হাওর এলাকায় ছুটে আসেন। দুর্গম হাওর এলাকায় প্রবাসীর উদ্যোগে এত বড় মৎস্য খামার দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

 

বুধবার (১৬ অক্টোবর) সরজমিনে প্রবাসী আব্দুল হাই এর মৎস্য খামারের সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান স্থানীয় কানাইঘা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত সাংবাদিকরা। প্রত্যন্ত হাওর এলাকায় প্রবাসীর বিনিয়োগে গড়ে উঠা মৎস্য খামারগুলো দেখে সাংবাদিকরা অভির্ভুত হন।

সরকার অনুমোদিত এএইচ মৎস্য খামারের ম্যানেজার জয়পুর হাট জেলার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রবাসীদের বিনিয়োগের মাধ্যম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা নানা ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে। তেমনি একজন সফল প্রবাসী উৎপাদন মুখী মানুষ আব্দুল হাই আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন কিভাবে প্রত্যন্ত হাওর এলাকায় মৎস্য খামার গড়ে তোলে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের বেকারত্ব দূর করা যায়।

 

চাড়ুকুড়ি প্রকল্পের নাম দেওয়া ৩শ’ একর জুড়ে বিস্তৃন এ মৎস্য খামারগুলোতে সৃজনে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা এবং বর্তমানে লাখ থেকে অর্ধ লক্ষ টাকার রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউস, কালো বাউস, গ্রাসকার্প ও ব্রিগেটসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে।

 

Manual7 Ad Code

নুরুল ইসলাম আরো জানান, হাওর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত থাকায় মৎস্য খামারে তারা বিভিন্ন প্রজাতির উন্নতমানের চিংড়ি, পাবদা সহ আরো অনেক প্রজাতির মাছের উৎপাদন করতে পারছেন না। খামারের মালামাল আনা নেওয়াসহ মাছ বিক্রি করতে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি হাওর এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত করা হলে প্রবাসী আব্দুল হাই এর মত আরো অনেকে অপরিত্যাক্ত জমিতে এ ধরনের মৎস্য খামার গড়ে তোলতে এগিয়ে আসবে। শুধু তাই নয় এখানে পোনা মাছের নার্সারীও রয়েছে।

 

এই নার্সারীর জন্য ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উন্নতমানের মাছের রেনু ক্রয় করা হয়ে থাকে। আর সেই রেনু থেকে উৎপন্ন পোনাগুলো সারা বছর এখানে বিক্রি করা হয়।

 

Manual5 Ad Code

মৎস্য খামারের মালিক আব্দুল হাই সুদূর আরব আমিরাতের দুবাই শহর থেকে মোবাইল ফেনে জানান, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমে তিনি এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করেছিলেন। এরপর ৩ বছরে তিনি খামার থেকে ৮ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেছেন।

 

প্রবাসে থেকে কেন এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জানতে চাইলে আব্দুল হাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে একজন মানুষ ৪ থেকে ৫/৬ লক্ষ টাকা খরচ করে এখানে আসেন। কিন্তু অনেকে প্রবাসে এসে কাজ না পেয়ে অনেক কষ্ট করে থাকেন। প্রবাসে না এসে সেই টাকা দিয়ে ছোট বড় মৎস্য খামার গড়ে তোললে সহজেই সাবলম্বী হওয়া যায় অনেকের কর্ম সংস্থান সেখানে হয়। সেই স্বপ্ন দেখানোর জন্য আমি হাওর এলাকার জমি লীজ নিয়ে ও খরিদ করে মৎস্য খামার গড়ে তোলেছি। তার এত বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্য হল এলাকার বেকার মানুষের কর্মের সংস্থান করে দেওয়া। বর্তমানে তার মৎস্য খামারে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছেন। খামার এলাকায় ছাগল, হাঁস-মোরগের খামার সহ বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হবে বলে প্রবাসী আব্দুল হাই জানান।

 

কিন্তু তার আক্ষেপ কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক তার মৎস্য খামারগুলোর ক্ষতি সাধন করার জন্য চেষ্টা করে থাকে। সম্প্রতি একটি খামারে কিটনাশক প্রয়োগ করে দুষ্কৃতিকারীরা প্রায় ২ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষতি সাধন করে খামারের ম্যানাজার নুরুল ইসলাম জানান।

 

কয়েক মাস পূর্বে এ প্রবাসীর মৎস্য খামার দেখতে একজন উপ-সচিব পদ মর্যদা কর্মকর্তা হাওর এলাকায় যান।

Manual7 Ad Code

 

স্থানীয় জনসাধারন জানিয়েছেন, হাওর এলাকার অপরিত্যাক্ত অনাবাদী জমিতে প্রবাসী আব্দুল হাই বিশাল বিশাল মৎস্য খামার গড়ে তোলায় তারাও এখন মৎস্য খামারের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসছেন।

 

তারা সরকার কর্তৃক এ প্রবাসীকে এ ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়ায় সিলেটের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারী হিসাবে পুরস্কারে ভুষিত করার দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code