আমার সাংবাদিকতা এবং একজন কমরেড দিপন

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

আমার সাংবাদিকতা এবং একজন কমরেড দিপন

Manual8 Ad Code

শামছুল আলম আখঞ্জী টিটু: ইচ্ছেটা জন্মেছিলো স্কুল জীবন থেকেই। কিন্তু মফস্বলে থাকায় সেই সুযোগটি হয়ে উঠেনি। একদিকে শিক্ষক পরিবারের সন্তান, অপরদিকে বড় সন্তান; সাংসারিক ব্যস্থতা। অবশেষে নিজের সুপ্ত ইচ্ছাটির জানান দিতে শুরু হলো প্রচেষ্ঠা। ব্যাপারটি জানিয়ে দিলেন কানাডা প্রবাসী ছোটো ভাই এবং এলাকার সন্তান, সিলেটের ছড়া সাহিত্যের এক প্রদীপ্তজন বশির আহমদ জুয়েলকে। শুরু হয়ে গেলো হাঁকডাক। জুয়েলের মধ্য দিয়েই পরিচয় কমরেড দেবব্রত রায় দিপন দা’র সাথে।

বলছি- আমার সাংবাদিকতার শুরু নিয়ে। আমার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতেই দিপন দা’র সাথে পরিচয় (ফোনে) করিয়ে দেয় জুয়েল। সেই থেকে শুরু। প্রায় বছর তিনেক হবে। এখনও আছি সাংবাদিকতায় এবং দিপনদা’র সাথেই। তিনি সাংবাদিক বলে তখনও জানতাম না। জানতাম জুয়েল এবং কমরেড দিপন দু’জনেই ছড়াকার। সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গণে দু’জনেরই রয়েছে বেশ দাপট। দাদার সান্নিধ্য পেয়ে নতুন করে জানতে লাগলাম মানুষটিকে।

না, তিনি শুধু সাহিত্যের মানুষই নন। তিনি একজন পেশাদার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজ কর্মী, বেতারের উপস্থাপক, আবৃত্তিকার, গীতিকার এবং স্রোতের বিপরীতে হেঁটে চলা একাকী মানুষ। কথাতেও রাগের স্বর থাকলেও ভেতরের দিপন একজন আপাদমস্তক নরম মনের মানুষ। যতোবারই সিলেটে গিয়েছি, দাদার সান্নিধ্য লাভ করেছি। দাদার পাশে মোটর সাইকেলে চড়ে চড়ে ক্লাস করেছি সাংবাদিকতার টুকিটাকি বিষয়ে।
আমার লেখনী সাংবাদিকতা যার মাধ্যমে আমি সেই মানুষের আদর্শ অনুসরণ করে আমি এখনও আছি অবিচল এবং ভয়হীন। তাই আমার লেখনী জীবনের চেতনার উৎস’ গুরু, সিলেট প্রতিদিন নিউজ পোর্টাল এর নির্বাহী সম্পাদক, সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন। শুধু আমি নই, সিলেট থেকে প্রায় দুই ডজন সাংবাদিক তৈরি হয়েছে কমরেড দিপনের হাত ধরে-যারা বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইনে কাজ করছেন সুনামের সাথে।

Manual3 Ad Code

তিনি কাজ করেন, মানব কল্যানে। অসৎ উপার্জনকে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেন বলেই যাপিত জীবনে তিন কন্যা সন্তান নিয়ে সিলেটে ভাড়াটিয়া বাসায় থেকে কোনোরকমে জীবন কাটাচ্ছেন। সিলেটে পরিবারের নিজস্ব বাসা থাকলেও তিনি নিজ যোগ্যতায় বেঁচে থাকতে চান বলে, বাস করেন ভাড়া বাসায়। লোভ লালসাকে লাথি মেরে,আত্মশোধন চান মনে প্রাণে। সেই মহান ব্যক্তির উৎসাহ উদ্দীপনা পেয়ে সূচনা করেছি কর্ম জীবনে।

Manual1 Ad Code

যিনি বার বার পিছনে ফিরে আসা নয়;শত-সহস্র বাধা ডিঙ্গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ। তিনি দমে থাকতে চান না কোন ভাবেই, শত বাঁধা ডিঙ্গিয়ে চলা তার স্বভাব । সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপনের আর কিছু না থাক”কবিতা “ ছড়া , ‘সত্য, প্রকাশে নির্বিক ।তিনি আবেগী,সাহসী এবং সময়ের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।

অভিজ্ঞতালব্দ চেতনাকে উচ্চস্বরে বলবার সৎসাহস আছে তাঁর। তিনি কবিতা বলেন আপন ঢংয়ে।বলেন আপন মনে। জীবভালবাসার প্রতি অবিনশ্বর পক্ষপাত তাঁর।ভালবাসাময় যাপিত জীবনের অবারিত কষ্ট,পাওয়া না পাওয়ার হিসেব,সুখ,দু:খের ছবি আছে তার লেখনীতে ।
ভালবাসার প্রতি তার অবিরাম,অফুরান ভালবাসা।তাইতো সে কারনেই গ্রন্থ ছড়কার আবৃত্তি কারক নাম দিয়েছেন ।ভালবাসায় শুরু ভালোবাসাতেই সমাপ্তি।

Manual2 Ad Code

খুব বৈচিত্র্য পূর্ন না হলেও নানা রঙের বৈভব,প্রেম ভালবাসা আছে তার লেখনীতে । আছে শিল্পগুন।আবেগ আর অভিজ্ঞতার নানামুখী চালচিত্র বর্নিত হয়েছে তার লেখনী।
সময়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি”খুব কি বেশী চাওয়া আমার”! বর্তমান সমাজের নানা অসংগতি আর অমানবিকতা তার লেখনী মন প্রায়শই যন্রনাক্লিষ্ট করে।অন্তরদাহ তাকে বিদ্রোহী করে তোলে।তিনি সোচ্চার হয়ে ওঠেন শব্দ ও ছড়ার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ ।
সবমিলিয়ে প্রথম ছড়া বইয়ে অনেকটাই আলোকিত ছড়াকার আবৃত্তি কারক সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন। এবং আমরা তার সম্ভাবনাময় আগামী দেখতে পাই। আশা করি সফল হবে তার সব লেখনী অগ্রযাত্রা। তাইতো আমার’ লেখনী জীবন, চলার পথে চেতনার উৎস বলি সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন গুরু কে।

বিথী

Manual7 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code