সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০
মো: হুমায়ুন রশিদ তারেক : হাজার বছর ধরে প্রকৃতি ধারণ করেই বেঁচে আছে মানুষ। এক কথায় প্রাণীজগতের সকল প্রয়োজনীয় রসদ প্রাপ্তির একমাত্র নির্ভরতা আমাদের প্রকৃতি। প্রকৃতিকে ব্যবহার করে জীবন সংগ্রামী মানুষ গড়ে তুলছে সভ্যতা। প্রাণশক্তিতে ভরপুর মানুষ প্রকৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজের আধিপত্য। প্রাণীজগতের এ আবাসস্থলে পৃথিবীর কাছে প্রকৃতি বড়ই রহস্যময়। প্রকৃতি নিজের বুকে ধারণ করে রেখেছে প্রাণীজগতের বেঁচে থাকার সকল উপাদান। আবার এই প্রকৃতিই খেয়ালবশে হয়ে উঠে কখনো বৈরী, প্রমত্ত, উদ্ধত। আকস্মিক বিপর্যয়ে প্রকৃতি মুহুর্তের মধ্যেই তছনছ করে দেয় মানুষের সাজানো সংসার, স্থাপনা, সৌধ। আধুনিক পৃথিবী সভ্যতার চরম শিখরে পৌছে গেলেও প্রকৃতিকে এখনও মানুষ বশ করতে পারেনি। বরংচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ অনেক সময় প্রকৃতির কাছে হেরে গেছে বারেবারে।এক যুগ অন্তর অন্তর কমবেশি পৃথিবীর সব দেশেই মহামারিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত করে। বাংলাদেশও এর প্রভাব কম নয়।
গত মার্চ মাস হতে একটি চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে বাংলাদেশে। মানুষের মধ্যে একটি অস্থিরতা কাজ করছে প্রতিনিয়ত। স্বস্তির নিশ্বাস নিতেও কষ্ঠ হচ্ছে অনেকের। এক বিংশ শতাব্দিতে এসে এরকম একটি পরিস্থিতি আমাদেরকে পার করতে হবে তা কখনো কল্পনা করা হয়নি। অকল্পনীয় বিষয়টি ক্ষেত্র বিশেষ বাস্তবই হয় তা কখনো ভাবা হয়নি। আর আজ আমাদের পুরু বিশ্ব মুখোমুখি হয়ে লড়াই করছে মহামারি ভাইরাস করোনার সাথে। যেটা কখনো কল্পনা করিনি। বিশ্বের ২০০ শত এর অধিক দেশ এক সাথে লড়াই করছে অজানা এই ভাইরাসের সাথে। দিন রাত পরিশ্রম করে সম্মুখ ভাগের যোদ্ধারা প্রতিনিয়ত রিকভারি করার প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশও তার স্বচ্ছ সক্ষমতা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বৃহৎ কর্ম পরিধি। পুরু বিশ্ব যখন এই ভাইরাসের সাথে নাজেহাল, তখন বাংলাদেশও এই ভাইরাসের সাথে মোটেও পরিচিত নয়। কিন্তু ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডোর মতন প্রাকৃতিক দূর্যোগ বাংলাদেশে নতুন নয়।
ইতিমধ্যে আমরা সুপার সাইক্লোন আমফানের মতন প্রাকৃতিক দূর্য্যোগ পার করে এসেছি গত মে ২০ইং মাসে। আর এসবের সাথে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। ইতিহাস বিবেচনা করলে বহুবার প্রাকৃতিক দুর্য়োগের মুখোমুখি হয়েছি আমরা। বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা অতি পরিচিত এই সব প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে অভ্যস্ত হয়ে মানিয়ে নিয়েছি আমরা আমাদের জীবন যাত্রাকে। প্রতিবৎসর এই সব প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পরে এ পর্যন্ত বিপুল প্রাণের ক্ষয়, ফসলের ক্ষতি ও সম্পদের হানি ঘটেছে অনেক।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে মহামারী করোনার ভয়াল গ্রাসে যেমন আমরা বিপর্যস্ত অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর মুহুর মুহুর বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা। বন্যার কারণে মানুষ এখন অনেকটা গৃহবন্দী। নিরুপায় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে, কেউবা আবার করোনার ভয়াল থাবায় তার পরিবারের সদস্যকে হারিয়ে এখন অনেকটা শোকে কাঁতর। জীবন মরণের সন্ধিক্ষনে আজ আমরা অনেকটা হতাশ, করোনার ভয়াল থাবা এখনো মাথার উপর দিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে অন্যদিকে প্রকৃতির সৃষ্টি এই প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। করোনা এবং বন্যা উদ্ভূত এই দুটি পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে এটা এক ধরনের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
লেখক : ম্যানেজার, রংমহল টাওয়ার এন্ড শপিং সেন্টার, সিলেট।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি