অপচয়-অপব্যয়ে চরম অধ:পতন ও প্রতিকার

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৩

অপচয়-অপব্যয়ে চরম অধ:পতন ও প্রতিকার

Manual6 Ad Code

ছবি : প্রতীকী


মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান :
মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অতীব প্রয়োজনীয় বিষয় হলো আয় ও ব্যয়। জীবনকে সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য আয় অনুযায়ী ব্যয় করা যেমন প্রয়োজন তেমনই প্রয়োজন অপচয় ও অপব্যবহার না করা। অথচ মানব সমাজে অপচয় ও অপব্যয় অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত প্রভাবিত হয়। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে অপচয় ও অপব্যবহার পরিচয়, কারণ, কিছু, দৃষ্টান্ত, এর ক্ষতিকর দিক সমূহ, কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে অপচয় ও অপব্যয় বন্ধের নির্দেশনা সমূহ পেশ করা হয়েছে। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে অপচয় ও অপব্যয় সম্পর্কে শরী‘আহর নির্দেশনা জানা যাবে, যা জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে এই দূরারোগ্য ব্যাধি দূর করা জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন সহায়ক হবে। জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন এবং সম্পদ ভোগকরার অনুমতি ও নিদের্শ প্রত্যেক ধর্ম ও সভ্যতায় রয়েছে। কিন্তু অন্য কোন ধর্ম বা সভ্যতায় ইসলামের মতো আয় ব্যয়কে নিয়ম নীতির মধ্যে আনেনি। ইসলাম একদিকে যেমন হালার উপায়ে অর্থ উপার্জনের নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে হালাল উপায়ে উপার্জিত অর্থ সম্পদ হালাল পথে ও পদ্ধতিতে ব্যয় করার ও নির্দেশ দিয়েছে। মানব সমাজে অর্থ ও সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় ও অপব্যয় আজ একটি বৈশিক সমস্যায় রুপান্তরিত হয়েছে। অথচ ইসলাম এটিকে স্পটভাবে হারাম ঘোষনা করেছে। নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

 

আরবী “ইসরাফ শব্দের শাব্দিক অর্থ হল সীমালঙ্গন, অপচয়, অপব্যয়, অমিতব্যয়, বাড়াবাড়ি, মাত্রাতিরিক্ত. অপরিমিতি। কিন্তু কতিপয় বিজ্ঞ আলীম “ইসরাফ” শব্দকে ব্যয় করা ও খাওয়ার সাথে নিদিষ্ট করেছেন। বিশিষ্ট ভাষাতত্ববিদ আলী আল জুরজানী (৭৪০-৮১৬ হি,) রহ ইসরাফ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: ইসরাফ হলো কোন নিকৃষ্ট বা তুচ্ছ উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থ সম্পদ ব্যয় করা এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা। এও বলা হয়ে থাকে যে, ইসরাফ হল অবৈধ বস্তু ভক্ষন করা অথবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার গ্রহন করা। উপরোক্ত অর্থ থেকে ইসরাফের সংজ্ঞা আমরা এভাবে দিতে পারি যে, মানুষ তার কথা এবং কাজে সীমালঙ্গন করা। যদিও ইসরাফ শব্দটি খরচের সাথে হওয়াই প্রসিদ্ধ।

 

ইসরাফ ভাল মন্দ উভয়ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। যেমন কোন ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পদ সদকা করে দিল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআল বলেন, এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং দান কর কর্তনের সময় এবং অপব্যয় কর না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না। ইসরাফ ধনী দরিদ্র উভয়ের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আবার তা পরিমান গত দিক দিয়ে ও পদ্ধতিগত দিক দিয়ে হয়ে থাকে। এ জন্য মুহাদ্দিস সুফইয়ান আছ ছাওরী (৯৭-১৬১ হি.) রহ. বলেন, তুমি আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে যা খরচ কর তা ইসরাফ বা অপব্যয়, যদিও তা পরিমানে কম হয়। ইবনু আব্বাস রা. বলেন Ñ যে ব্যক্তি অযথা কাজে এক দিরহাম ও খরচ করল তাই অপচয়। অভিধানে তাবযীর অর্থ লেখা হয়েছে অপচয়, অপব্যয়, বাজে খরচ অমিতব্যয় ইত্যাদি। এর বুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘বীজ ছিটানো ও নিক্ষেপ করা। এ থেকে শব্দটি রুপকভাবে অযথা ব্যয় করার অর্থে বহুলভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা আলা বলেন, তুমি অপব্যয় করবে না। ফকীহগণ “তাবযীর কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার না করা, তা অনুচিত কাজে ব্যয় করা। এই দৃষ্টিকোন থেকে ইসরাফের তুলনায় তাবযীর খাস বা নিদিষ্ট। কেননা তাবযীর হলো খারাপ কাজে সম্পদ ব্যয় করা, আর ইসরাফ হলো যে কোন কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা। আবার বিশিষ্ট ফাকীহ ইবনু আবিদীন (১১৯৮-১২৫২ হি.) রহ. অন্য দৃষ্টিকোন থেকে ইসরাফ ও তাবযীরের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন, তাবযীর শব্দটি ইসলাফের অর্থেই ব্যবহার হয়ে থাকে, ্এটাই প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। ইসরাফ হলো প্রয়োজনীয় কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা আর তাবযীর হলো অপাত্রে খরচ করা। ইমাম আবুল হাসান আর-মাওয়ারদী (৩৬৪-৪৫০ হি.) রহ. বলেন ‘তাবযীর হলো খরচের যথার্থ স্থান সম্পর্কে অজ্ঞতা আর সারফ হলো খরচের যথার্থ পরিমান সম্পর্কে অজ্ঞতা।

 

যে দীন তাকে বিভিন্ন ভাবে অপচয় ও অপব্যয় করতে নিষেধ করেছে সেই দীন সম্পর্কে অপচয় ও অপব্যয়কারীর অজ্ঞতা অপচয় ও অপব্যয়ের অন্যতম কারণ। নে ব্যক্তি কুরআন সুন্নাহের জ্ঞানেজ্ঞানী হলে তার দ্বারা অপচয় করা সম্ভব হত না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। অপচয়কারীকে দুনিয়াতে আফসোস ও লজ্জিত অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। এ মর্মে আল্লাহ তা আলা বলেন, এবং তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণরূপে প্রসারিতও করো না তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে। অপচয়কারীর জন্য আখিরাতে রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন. বাম পার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগ্য তারা! তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানীতে এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়, যা শীতল নয় এবং আরামদায়ক ও নয়। তারা ইতোপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল। অপচয়কারীর দীন সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলাফল হলো, বৈধ জিনিষ গ্রহন করতে সে সীমালঙ্ঘন করে। আর এটাই তাকে শারীরিক ও প্রবৃদ্ধির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে। এ কারণেই অলসতা তার উপর চেপে বসে। উমর রা. বলেন, তোমরা সীমাতিরিক্ত পানাহার থেকে সাবধান থাকো। কেননা অতিরিক্ত পানাহার শরীলের জন্য ক্ষতিকর, রোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক, সালাত থেকে অলসকারী। তোমরা পানাহারের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, তা শরীরের জন্য উপকারী, তা দ্বারা অপচয় থেকেও বেচে থাকা যায়।

Manual4 Ad Code

 

মানুষ শিশু কালে তার মা বাবার আচরণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে মা বাবা যদি অপচয় কারী হয়ে থাকে তাহলে সন্তান ও অপচয়ের শিক্ষা গ্রহন করে থাকে। এজন্য স্বামী-স্ত্রীকে দীন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। আর তা সন্তানের কল্যানের জন্যই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে সৎকর্মপরায়ন তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয় তবে আল্লাহ নিজে অনুগ্রহে তাদেরক স্বচ্ছল করে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সবজ্ঞ। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত. নবী স. বলেন, মেয়েদেরকে চারটি গুন দেখে বিবাহ করতে হয় ; তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দীনদারী (ধর্ম পালন)। তুমি দীনদার মেয়েকে বিবাহের ক্ষেত্রে অগ্রাদিকার দাও। অন্যথায় তোমার ধ্বংস অনিবার্য। বেশির ভাগ মানুষ অর্থ-সম্পদ হাতে আসলেই হিসাব ছাড়া খরচ করে। সে একটি বার ও ভেবে দেখে না যে, দুনিয়ার জীবন সর্ববস্থায় সমান থাকে না। আজকে হাতে অর্থ আছে কালকে না ও থাকতে পারে। তাই প্রত্যেকেরই উচিত, আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামত যথাযথভাবে খরচ করা। আজকের অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহ করে বাকী অর্থ সম্পদ ভবিষ্যতের জন্য জমা করে রাখা উচিত। যা তার বিপদের সময় কাজে আসবে। অধিকাংশ মানুষ যারা অসচ্ছল ও দরিদ্রবস্থায় দিনাতিপাত করে অথবা দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে জীবন যাপন করে তারা ঐ সময় ধৈর্য ধারণ করে। কিন্তু তারা যখন হঠাৎ ধনী হয়ে যায় কিংবা সুখের জীবন পায় তখন তারা জীবনের উপর নিয়ন্তন করতে পারে না। ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা বেহিসেবি হয়ে পড়ে। অপচয়ের এটি ও একটি কারণ। অপচয়ের অন্যতম কারণ হলো অপচয়কারীর সঙ্গ ও সহচর্য। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ তার সঙ্গীর চরিত্র গ্রহন করে, তাই সঙ্গী অপচয়কারী হলে তার অন্য সঙ্গী ও অপচয়কারী হবে। নবী স. বলেছেন, ব্যক্তি তার সঙ্গীর চরিত্র গ্রহন করে। সুতরাং তোমার সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করবে। অপচয়ের এটি ও একটি কারণ যে মানুষের সামনে নিজের খ্যাতির আকাক্সক্ষা করা। আর তখনই মানুষ অন্যের সামনে নিজের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য তার সম্পদ অকাতরে খরচ করে। মূলত এর মাধ্যমে সে অপচয়ের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ে যা সম্পূন্ন হারাম। মানুষ অন্যের অনুসরণ করতে গিয়ে নিজের বড়ত্ব ও দানশীলতা প্রকাশের জন্য াপচয় করে থাকে। মানুষের জানা উচিত যে,অপচয় ও অপব্যয়ের পরিণাম মারাত্মক ও ভয়াবহ। মানুষ এই খবর জানে না বা জানলেও এ সম্পর্কে উদাসীন। তাই সে অপচয় করে।

 

ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানী রহ. অপচয় ও অপব্যয়ের দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এভাবে “তৃপ্ত হওয়ার পরে খাওয়া, বৈধ জিনিষ অতরঞ্জিত করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার টেবিলে রাখা, রুটির সাইড বাদ দিয়ে শুধু মাঝখান থেকে খাওয়া,রুটির যে অংশ ফুলে উঠে শুধু সেই অংশটুকু খাওয়া যেমনটি অনেক মূর্খ ব্যক্তিরা করে থাকে কোন লোকমা হাত থেকে পড়ে গেলে তা না উঠানো ইত্যাদি। ইমাম আবুল হাসান আল- মাওয়াদী রহ. বলেন “অপচয় হল, দুনিয়াতে কোন উপকার পাওয়া যায় না, আখিরাতে ও কোন প্রতিদান পাওয়া যায় না, এমন কাজে সম্পদ ব্যয় করা। এর মাধ্যমে সে শুধু দুনিয়াতে অপমান ও আখিরাতে পাপের অংশীদার হয়। যেমন বিভিন্ন হারাম কাজে বিশেষ করে মদ পানের জন্য, অশ্লীল কাজে, নির্বোধ ব্যক্তিকে, গায়ক-গায়িকা, কৌতুক ও অভিনেতাকে টাকা-পয়সা দেওয়া। যা কবীরা গুনাহ। অপচয় হলো প্রয়োজন ছাড়াই বাড়ী নির্মান করা। অথচ সে ঐ বাড়ীতে বসবাস করবে না। অপচয় হলো খুব দামী বিছনা ক্রয় করা, স্বর্ণ রৌপ্যের আসবাবপত্র ব্যবহার করা। বাড়ীতে বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত আসবাপত্র রাখা ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন,“ তবে যে ব্যয়ের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রতিদান পাওয়া যায়, জ্ঞানী লোকের নিকট প্রশংসা পাওয়া যায় তা দান হিসাবে গণ্য হবে, অপচয় নয়। এর পরিমান যথই বেশী হোক না কেন। পক্ষান্তরে ইসলাম বহির্ভূকাজে ব্যয় করা, যার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট পাপী হিসাবে আর জ্ঞানীর নিকট লাঞ্ছিত হিসাবে গণ্য হবে তাই অপচয় ও অপব্যয়, পরিমানে তা যতই কম হোক না কেন।”

 

নিঃসন্দেহে যেকোন প্রকার ধূমপান ও নেশা গ্রহন মানুষের জন্য বিধ্বংসী মারণাস্ত্র। কিন্তু ধূমপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্যের বাজার এত সয়লাব হয়েছে, যে মুসলিম বিশ্বে ও মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবস্থা হচ্চে এই ধ্বংসাত্মক নেশা জাতীয় দ্রব্যের মাধ্যমে। যদিও ইদানিং স্বাস্থ্য সচেনতার কারণে কিছু দেশে ধূমপানের পরিমান কমে এসেছে, কিন্তু উন্নত দেশ গুলোতে এর পরিমান বেড়েই চলছে। মুসলিম বিশ্ব এর থেকে পিছিয়ে নেই। এক জরিপে দেখা গেছে, এশিয়ার ৩০% লোক ধূমপান করে। যা আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। আরব দেশগুলোতে প্রতি বছর মদের ব্যবসায় ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়।

 

মানুষ তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করলে হজম করতে পারে না। ফলে সে বদহজমীতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। অতিভোজনের ফলে ভুরি বেড়ে যায়, চর্বি বৃদ্ধি পায়। এতে শ্বাসকষ্ট হয়। হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা ও থাকে। ডায়রিয়া ও হয়ে থাকে অতিভোজন ফলে। আর এভাবে মানুষ তার রোগ প্রতিরাগ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মানসিকভাবেও সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় মানুষ তার অব্যাসবশত অনেক জিনিষ ক্রয় করে থাকে, অথচ এগুলোতে তার কোন কাজ নেই। এর মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজ এমনকি রাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উদাহরনস্বরুপ বলা যায় অনেক মানুষ বোিশ দামে লাল আপেল ক্রয় করে অথচ পুষ্টির ক্ষেত্রে লাল আপেলের কোন বিশেষত্ব নেই। আবার বিভিন্ন কোম্পানী তাদের নতুন পণ্য বিক্রির জন্য বিভিন্ন ধোঁকার ও আশ্রয় নেয়, আর মানুষ ও বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করে। এর মাধ্যমে ও অপচয় ও অপব্যয় হয়। বিভিন্ন বানিজ্যিক ঘোষনার মাধ্যমে ও মানুষকে ধোঁকায় নিমজ্জিত করা হয়। যেমন ১০টি পন্য একসাথে কিনলে ২০০ টাকার প্রাইজবন্ড। এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির দশটি পণ্যের প্রয়োজন নেই সেও দশটি পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে অপচয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন ফ্যাশনের পনিবর্তন ও বিভিন্ন পণ্যের উদ্ভোবনের মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি অপচয়ে লিপ্ত হচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এসব দৈনন্দিন পরিবর্তন ফ্যাশন তাদের মনে কোন বিরূপ প্রতিক্রয়া সৃষ্টি করছে না। বরং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তারা অংশগ্রহন করে যাচ্ছে। আর তাদের মনে এই বিষ ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, এই সব অত্যাধুনিক আসবাপত্র গ্রহন না করাটা আধুনিকায়ন ওপ্রগতিশীলতায় বিরোধিতা করে পিছনের দিবে ফিরে যাওয়ার নামান্তর। এই ফ্যাশন বেশি আক্রান্ত হয়েছে নারীরা। যেমন নিত্য নতুন গাড়ির চাহিদা, নিত্য নতুন মোবাইল, আরো বিভিন্ন উন্নত আসবাবপত্রের আবিষ্কার হচ্ছে। যার মাধ্যেমে মানুষ অপচয়ের নিমজ্জিত হচ্ছে। বিশেষ করে ধনী শ্রেনীরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য তারা প্রতিনিয়ত এসব জিনিস ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পূর্বেই পরিত্যাগ করছে। বস্তুত এগুলো একদিকে অপচয়, অন্যদিকে অবকাঠামো ধ্বংস করা। অপচয় ও অপব্যয়ের যে ক্ষতিকর দিকগুলো রয়েছে সেগুলো ব্যক্তি, পরিবার. সমাজ, রাষ্ট্র,এমনকি আর্ন্তজাতিক ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলে। অযথা খরচ দুনিয়ার ব্যবস্থাপনাকে যেমন বিশৃঙ্খল করে, তেমন ব্যক্তির আখিরাতকেও নষ্ট করে। নিম্নে অপব্যয় ও অপটয়ের কিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হলো, অপচয়ের জন্য মানুষ উপরি ইনকামের প্রতিঝুকে পড়ে। এ জন্য মানুষ অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র অর্থনৈাতকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নবী স. বলেছেন, ‘প্রত্যেক ঐ শরীর যা হারাম দ্বারা গঠিত, তারা জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত।

 

Manual4 Ad Code

অপচয়ের মাধ্যমে মানুষ হঠাৎ করে যে কোন কাজ করে বসে, পরিণতির প্রতি চিন্তা করে না। মানুষ তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে না, আর এর পরিণতি হয় অত্যন্ত ভতয়াবহ, যা মানুষকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। আর হিংসাহ বদ্বেষে অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অপচয়ের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যবহার করে এবং তার আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সে মনে মেনও অনেক পাপের বিষয় গোপন করে রাখে, করন মানুষ পেটপুরে খেলেই সেখানে শয়তান অবস্থান গ্রহন করে। এ জন্য নবী স. কলেছেন: আদম সন্তান তার পেটের তুলনায় অন্য কোন খারাপ পাত্র ভর্তি করে না। মানুষের জন্য তো কয়েক লোকমা খাদ্যই যথেষ্ট, যা তার মেরুদÐ সোজা করে রাখেন। আর যদি একান্তেই প্রয়োজন হয়, তাহলে পাকস্থলীর এক- তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় আর এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখবে।” পরিবেশের অবক্ষয়ের জন্য অপচয় অন্যতম প্রধান দায়ী। অপচয় বিভিন্ন প্রকার হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব একই, আর তা হল ক্ষেতে-খামারে ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের চরম অধঃপতন। সৌখিনতা মানুষকে বিলাসী করে তোলে, যা মানুষের খারাপ কাজে অগ্রগামী করে। সে সংগ্রামে ও ত্যাগের মানসিকতা সপরিত্যাগ করে। যা মূলত অপচয়ের ফলাফল। অপচয় হল মূলত প্রবৃত্তির অনুসরণ। প্রবৃত্তি যা আদেশ করে সে তাই করে । প্রবৃত্তি যা নিষেদ করে তা সে করে না। এক্ষেত্রে আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণেই বুদ্ধিমানে কাজ, আর তুমি অপব্যয় করো না। যে ব্যক্তি এক মাসের খরচ এক দিনে ব্যয় করবে, তাকে করে চলবে সে প্রশান্ত চিত্তে দিনে কাটাতে পারবে। অপচয়ের মাধ্যমে মানুষ অন্যদের প্রতি যতœহীন হয়ে পড়ে। তবে সে তখনই টের পায় যখন সে সংকীর্ণতার সম্মুখীন হয়। যেমন ইউসুফ আ. থেকে বর্ণিত আছে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, আপনি তো কখনো পরিতৃপ্ত হয়ে খান না? তিনি বললেন, আমি যদি পরিতৃপ্তি হয়ে খাই তাহলে ক্ষুধা কী জ্বালা তা আমি ভুলে যাব। অপচয়কারী তো আল্লাহর নিয়ামত সম্পর্কে ভুলে থাকে, সে কিভাবে অন্যদের প্রতি গুরুত্ব দিবে?

 

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসের পানাহারের বিষয়ের পুরাতন। পানাহার-এর বিষয়ে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ্-এর বিধানই মুসলিমদের অনুসরণ করতে হবে। এমনকি ফিকহের কিতাবগুলো খাদ্য ও পানীয়ের জন্য আলাদা করে অধ্যায় রচিত হয়েছে। সেখানে হারাম খাদ্য নিষেদ করা হয়েছে, খাদ্যের আদব রক্ষা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান যুগে পানাহার অতিভোজন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আর এভাবেই খাদ্য পানীয়ের কোম্পানীগুলো অর্থ ধ্বংস করে চলছে। অতিভোজনের জন্য বিভিন্ন হোটেলে রেষ্টুরেন্ট খোলা হচ্ছে। দুদিন পর নানা রকমের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। বাস্তবাদী ধ্যান-ধারণায় পুষ্ট লোকদের অন্ধ অনুকরনের পিছনে মুসলিমরা ও ছুটে চলছে। অধিকাংশ মানুষের জীবনই অনুষ্টান ও পেক্ষাপটে অপচয় করাটাই অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। এমনকি আমাদের অনুষ্ঠানগুলো ব্যয়বহুল আর আমাদের রমজান মাস ইবাদত ও তাহজ্জুদের পরিবর্তে অপচয়ের মৌসুমে পরিণত হয়েছে।

 

মানুষ তার জীবনে চলার পথে গুরুত্বপূণ দায়িত্বসমূহ পালন করে থাকে। যেমন, আল্লাহর ইবাদত, পৃথীবি বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা ও সেখানে কল্যান ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত কর, এজন্যই সে খাদ্যের প্রতি মুখাপেক্ষী। যাতে করে সে বড় হয় জীবন ধারণ করতে পারে চলাফেরা ও কাজ কর্ম করতে পারে। এ জন্য সে পানীর প্রয়োজন বোধ করে। যেহেতু পানী ছাড়া মানুষ বেশি দিন বাচঁতে পারে না সেহেতু বেচেঁ থাকার তাগিদেই সে পানাহারের প্রতি মুখাপেক্ষী। ঠিক তদ্রæপ বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য পরিমান মতো গ্রহন করা মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে শক্তিশালী ও সুস্থতা দান করে। আবার একই খাদ্য গ্রহন করা মানুষের স্বভাব বিরুদ্ধ। এজন্য বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য তাকে গ্রহন করতে হয়। যেমন, পানীয়, সুগার, প্রোটিন, তেল, চর্বি ভিটামিন সহ বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য। সুতরাং মানুষের ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণে যতটুকু পানাহারের প্রয়োাজন ততটুকু গ্রহন করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক, আর শরীয়ত তাই অনুমদন দেয়। জনাব মহিউদ্দিন মাস্তু বলেছেন, “ অতিভোজন যেমন রোগের জন্ম দেয় ঠিক তেমনি একেবারে খাদ্য গ্রহন না করা রোগের জন্ম দেয় ও ইবাদতে অলসতা সৃষ্টি করে। আর পানাহারের মধ্যম পন্তা অবলম্বন করা অন্তরকে শান্তি প্রদান করে। সুতরাং পানাহারের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই যুক্তিযুক্ত।” নবী স: ও খাদ্যের ব্যাপারে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, কাফির ব্যক্তি খায় সাত পেটে আর মুমিন ব্যক্তি খায় এক পেটে। আর এতে অনেক উপকার বিদ্যমান, যেমন, সুস্থতা সুন্দর বোধশক্তি, প্রখর মুখস্থ শক্তি, অল্প ঘুম হালকা শরীল ইত্যাদি। এজন্যই বিজ্ঞানীরা বলেন সবচেয়ে বড় ঔষুধ হলো পরিমান মত খাদ্য গ্রহন করা। পক্ষান্তরে অতিরিক্ত পানাহার মানুষকে সম্পদ অপচয়ে বাধ্য করে, তার চিন্তা চেতনা সর্বদাই খাদ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। আলী রা, বলেন “যতটুকু খাদ্য দ্বারা ধনীরা বিলাসিতা করে ততটুক খাদ্যই গরীবের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। বলা হয়ে থাকে “অতিভোজন বুদ্ধিমত্তাকে লোপ করে দেয়। ওমর রা: বলেন, তোমরা অতিভোজন থেকে বিরত থাকো, কেননা তা সালাতে অলসতা সৃষ্টি করে, শরীরকে অসুস্থ করে দেয় এবং তোমরা পানহারের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। কেননা তা ক্ষতি থেকে দূরে রাখে, শরীরের সুস্থতা বৃদ্ধি করে, ইবাদতে শক্তি যোগায়। নিশ্চয় কোন ব্যক্তি তার দীনের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করার পূর্বে তার ধ্বংস হবে না। উমার ইবনু হুবাইরা র, রোমের বাদশাহকে জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের মধ্যে তোমরা আহমক হিসেবে মনে কর? রোমের বাদশাহ উত্তরে বললেন. যে ব্যক্তি সামনে যা পায় তাই দিয়ে পেট পূর্ণ করে। ফারকাদ রহ. তার সাথীদের লক্ষ্য করে বলতেন,তোমরা খাওয়ার সময় লুঙ্গী বেধে বসবে লোকমা ছোট করবে, চিবিয়ে খাবে পানী পান করবে, তোমাদের কেউ যেন লুঙ্গী ঢিলে করে না বসে তাহলে তার পেট বড় হয়ে যাবে, আর তোমরা তোমাদের সামনে থেকে খাবে। এ ব্যাপারে সকল চিকিৎসক এক মত যে, রোগের প্রধান কারণ হলো খাওয়ার উপরে খাওয়া। এজন্য ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ রহ, তার বিখ্যাত গ্রন্থ “আত-তিব্ আন-নবাবী ” গ্রন্থে খাদ্যের তিনটি স্থর নির্ধারন করেছেন :

 

১ম স্তর : প্রয়োজনীয় পরিমান; ২য় স্তর : এমন পরিমান যা যথেষ্ট; ৩য় স্তর : অতিভোজন। কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্য যে, রমযান মাসে আমাদের পরিবারে খরচ বৃদ্ধি পায়। এমনকি এই মাসে অতিভোজনের কারনে অনেকের বদহজমিও হয়। আল- হাসান রা, থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদিন উমর রা. তার ছেলে আব্দুল্লাহ রা.-এর ঘরে প্রবেশ করে তার সামনে কিছু গোশত দেখতে পেলেন। এসময় তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই গোশত কেন? আবব্দুল্লাহ বললেন, গোশত খেতে মন চেয়েছে, তাই। উমর রা. বললেন, কোন জিনিষের প্রতি আশক্তি হলেই কি তোমাকে তা খেতে হবে? কোন ব্যক্তির জন্য অপচয় করাটা এতটুকু যথেষ্ট যে, তার মন যা চাইবে তাই সে খাবে। নিঃসন্দেহে এই উক্তিটি একটি প্রজ্ঞাবহ অর্থনীতির নিয়ম বহন করে, বিশেষ করে বর্তমান য গে আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে, বিভিন্ন বস্তু ক্রয়ের জন্য নানা ভাবে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একজন মনীষী মন্তব্য করেছেন যে, “আমরা সৌর্ন্দযের জন্য যে পরিমান কাপড় ব্যবহার করি তা সারা বিশ্বের উলঙ্গদের জন্য যথেষ্ঠ। আলী গালুম বলেন, “আমাদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে যে, পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি ব্যয় করে, বিশেষ করে তাদর পোশাকের ক্ষেত্রে। কিন্তু এমন কতক পুরুষ রয়েছে যারা মহিলাদের থেকে বেশি াপচয় করে। সাবাহা মালিকি বলেন ,“মহিলরা অন্যের বাড়ীতে অন্যের গায়ে যে পোশাক, আসবাপত্র দেখে তাই সে কিনতে চায়, যদি ও এগুলো তার প্রয়োজন নেই। এই মহিলাদের প্রয়োজন মিঠাতে গিয়ে অনেক সময় স্বামীর বেতন এর বাইরে কর্জ করতে হয়। এভাবে অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংসের মুকে পড়ে।”

 

বিভিন্ন আর্কষনীয় ভঙ্গিমায় বিলসী পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হওয়ার কারণে মানুষও সেদিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বাস্তব অবস্থাবাদরিয়্যাহ মুতাইরী তুলে ধরেছেন এভাবে যে, অধিকাংশ মহিলা স্বামীর নিকট অনেক প্রয়োজনীয় বিলাসবহুল আসবাপত্র দাবী করে, আর স্বামী স্ত্রীর মন যোগাতে সেসব অনৈতিক দাবী গুলো পূরণ করে। অথচ এগুলো অপচয় ও হারাম। মহিলাদের এই বিলাসিতার জন্য বিজ্ঞাপনী কোহম্পানীগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। পাশ্চাত্যের অনুকরণ ও এর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। আর অন্ধ অনুকরন নিদিষ্ট কেন স্থান বা জাতির মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সারা পৃথীবিতে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। মানুষের চাহিদা অপূরণীয়. বিশেষ করে বর্তমানে তা অতৃপ্ত,। সে সব কিছুই চায়,তার সবকিছুতেই আসক্তি, সব রঙে সে রঙিন হতে চায়। আমার আল্লাহর নিকট ঐ চক্ষু থেকে আশ্রয় চাই যা কাঁেদ না, ঐ অন্তর থেকে যা ভয় করে না, ঐ নাফস থেকে যা পরিতৃপ্ত হয় না, ঐ উদর থেকে যা পূরণ হয় না, আর ঐ দুয়া থেকে যা কবুল হয় না। অপচয়, অপব্যয়, ধ্বংস, ক্ষয়, সামাজিক অবক্ষয়, মানুষের বদহজম, ভূরি মোটা হওয়া সহ সকল অসুবিধার মূলে হল কেনাকাটার সময় নিয়মের তোয়াক্কা না করা, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ইত্যাদি। ডাষ্টবিনগুলোর অবস্থা অনুমেয় হয় দৈনিক আমরা কত খাদ্য অপচয় করছি। আর এভাবেই পশু চরিত্র আমাদের ব্যক্তিতে, পরিবারে, সমাজে, রাষ্টে, অনুপ্রবেশ করছে। আর গরীব মিসকীনরা হাহাকার করে মরছে। তুচ্ছ জিনিষকে কেন্দ্র করে আমরা যে পরিমান সম্পদ ব্যয় করি তা যাদি একত্রি করি, তাহলে অনেক মানুষের চলার গতি পাবে, পৃথীবি বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে, জীবন সুন্দর হবে। যদি আমরা একটু চিন্তাভাবনা করে খরচ করি তাহরে অপচয় ও দারিদ্রতা নামক পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি সমস্যার অবসান হবে। এভাবে দুটির মধ্যে সমতা বিধান করলে দুই সমস্যা দূরীভূত হবে।

 

ইসলামের মূল সৌন্দর্যই হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। ইসলাম যেভাবে অপচয়কে নিষেধ করেছে তেমনি কৃপণতাকে ও নিষেধ করে। এজন্য কুরআন সুন্নাহ মুসলিমদের পানাহার, পরিচ্ছদ, বাসস্থান, সেীর্ন্দয, যোগাযোগের মাধ্যম, বিবাহ-শাদীতে সব কিছুতেই চিহ্নিত করে দিয়েছে। এ জন্যই একজহন মুসলিম খরচ করার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধানাবলী পালন করা আবশ্যক : অর্থনৈতিক দিক যেন মুমিনদে কে গ্রাস করে না ফেলে, বরং মুমিন ব্যক্তি তার আক্বীদা ও মুমিনের চরিত্র অনুযায়ী তার অর্থনীতি পরিচালনা করবে। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে সম্পদ ব্যয় করা; অহংকার বর্জন করা; হারাম থেকে দূরে থাকা; নিয়মতান্ত্রিকতা মেনে সম্পদ ব্যয় করা; সচ্ছলতার সময় অসচ্ছল সময়ের জন্য সম্পদ জমা করে রাখা। একজন মুসলমান শরী‘আহ্ প্রণীত সীমারেখার মধ্যেই তার সম্পদ ব্যয় করবে। আর এটা উঠা নামা করবে বৈধ ও হারামের মাঝে। এটি হলো বৈধতার পর্যায়ে। যা অপচয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি অবস্থান করা। সৌর্ন্দয ও একেবারেই পরহেজগারিতার মধ্যবর্তী অবস্থান কিন্তু অধিকাংশ লোক এই নীতি গ্রহন করে না। তার সৌর্ন্দযের প্রতি ঝুকে পড়ে এক্ষেত্রে অনেকে অপচয় ও করে ফেলে অথচ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা ও আল্লাহর ব্ন্দাদের একটি গুন। আল্লাহ বলেন এবং তারা যখন ব্যয় করে তখন অথতা ব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। নবী স. বলেন, তোমরা খাও পান করো, দান-সদকা করো, তবে অহংকার ও অপচয় ব্যতীত।

 

সৌর্ন্দয অবলম্বন করা অবশই বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন এবং আপনার পালনকর্তার নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে বনী আদম, তোমরা সাজসজ্জা করে নাও প্রত্যেক নামাজের সময়, আর খাও পান করো অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না। নবী স. বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের মধ্যে তার দেওয়া নিয়ামতের প্রভাব দেখতে ভালবাসেন। হাদীসটির সনদ হাসান সহীহ্”। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষনীয় যে, সৌর্ন্দয যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। যেন অপচয়ের পর্যায়ে না পড়ে। দুনিয়া বিমুখতা :এটি একটি প্রসংশনীয় গুন। খুব কম মানুষই এ গুনে গুনাম্বিত। এই গুনে গুনাম্বিত ছিলেন নবী রাসূলগণ আ.,অতঃপর পূর্বেকার অনেক আলীম আর পরবর্তী গুগের খুব কম সংখ্যক লোক। এই কাজে অবশ্যই নিজের চাহিদ্ াত্যাগ করতে হয়, নিজের উপরে অপরকে প্রধান্য দিতে হয়। আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে তা অনেক কল্যাণকর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং ঈমাম এনেছিল তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষন করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্থ হলে ও তাদের অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত তারাই সফলকাম। কৃপণতা করা হারাম। কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহর শত্রু এমনকি তার নিজেরও শত্রু এবং প্রত্যেক ঐ জিনিষের শত্রু যা মানুষের উপকার করে। এভাবে যে সে নিজের প্রয়োজনও পূরণ করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা কৃপণতা করছে তারা নিজেদেরই প্রতি কৃপণতা করছে। নবী স. বলেন, তোমরা কৃপণতা থেকে দূরে থাকো: কারণ তোমাদের পূববর্তীদের অনেকেই কৃপণতার জন্য ধ্বংস হয়েছে। (শয়তান) তাদেরকে কৃপণতার আদেশ দিতো আর তারা কৃপণতা করতো, সে তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার আদেশ দিলে তারা তা ছিন্ন করতো, এবং সে তাদেরকে পাপাচারে লিপ্ত হতে নির্দেশ দিলে তারা তাতে লিপ্ত হতো।

 

Manual7 Ad Code

জীবনযাপনের সকল ক্ষেত্রেই অপচয় ও অপব্যয় করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। নবী স. বলেন, আমরা উন্মাতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি যার, যারা বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার খায় এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে আর লম্বা লম্বা কথা বলে বেড়ায়। এ জন্য সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম সু নিদিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। যেমন: বিলাসবহুল জীবন যাপন না করা। অথ্যাৎ দুনিয়ার চাকচিক্য ও বিলাসিতাতে ঘা ভাসিয়ে না দেয়া। এ ধরনের বিলসিতাকে ইসলাম সমর্থন করে না বরং নিন্দা করে। আর বিলাসিতার কারণেই আল্লাহর আযাব-গজব নেমে আসে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন অবস্থাপন্ন লোকের উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টির ওপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। পরিশেষে আমি তা সম্পূন্নরুপে ধ্বংস করে দেই। অপচয় না করা আবার সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে নিবুদ্ধিতার পরিচয় না দেয়া; সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা; হারাম ও ক্ষতিকর পণ্যদ্রব্যাদি বর্জন করা। আল্লাহ তা‘আলা ভাল জিনিষকে বৈধ করেছেন আর ক্ষতিকর ও নোংরা জিনিষকে হারাম করেছেন। আর ইসলামী আইনের একটি মৌলনীতি হল ক্ষতি করবে না ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। এ মূলনীতিটি রাসূলুল্লাহ স.- এর হাদীস দ্বারা স্বাব্যস্ত।

 

অহংকার কর না। যেহেতু ইসলাম ততটুকুই বৈধতা দিয়েছে যতটুকুর মধ্যে ব্যক্তি সমাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। অহংকার প্রদর্শনের জন্য সম্পদ ব্যয়কে ইসলাম অনুমোদন করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে ঈমানদার গণ, তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-খয়রাত বরবাদ করে না সে ব্যক্তির মত, যে নিজের ধন সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মৃসণ পাথরের মত, যার উপর কিছু মাঠি পড়েছিল। অতঃপর এর উপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অনন্তর তাকে সম্পূন্ন পরিস্কার করে দিল। তারা ঐ বস্তুর কোন সওয়াব পায় না, যা তারা উপার্জন করেছে। আল্লাহ কাফের স¤প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। নবী স. বলেন, যে ব্যক্তি অহংকার বশত তার কাপড়কে জুলিয়ে টেনে টেনে পড়ে, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। ক্ষুধার মাধ্যমে মানবীয় চাহিদাকে বহিভূত করা। মানুষ যখন পানাহারে পরিতৃপ্ত হয় তার মধ্যে কু প্রবৃদ্ধি জেগে উঠে। আর ক্ষুধার্ত থাকলে শান্ত থাকে। আলীম ও ফকীহগণের কাছ থেকে ক্ষুধার বিভিন্ন উপকার বর্ণিত হয়েছে। যেমন : অন্তর পরিস্কার থাকে ও অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়; অহমীকা খারাবী দূরীভূত হয়; আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদ আপদের কথা স্মরণ হয়; কুপ্রবৃদ্ধিকে দমিয়ে রাখা যায়; ইবাদতে অধ্যবসায় বাড়ে; দান সদকা করতে মন চায়। ভালভাবে অর্থনীতি বুঝা যায়। অথ্যাৎ আয়ের উৎস ও ব্যয়ের ও ক্ষেত্র সম্পর্কে ভালভাবে ধারণা রাখা। এক্ষেত্রে আমরা নবী জীবনের কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারি। যা নবী স. তার সাহাবীদের জন্য পেশ করে ছিলেন।

 

ক. এই শিক্ষা গ্রহন কর যে, অন্তরে অমুখাপেক্ষিতাই প্রকৃত অমুখাপিক্ষতা। আবু যার রা. বলেন নবী স. আমাকে বললেন, তুমি কি মনে করো যে, সম্পদ বেশি থাকাই ধনী হওয়া? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি স, বললেন, তুমি কি মনে করো যে, সম্পদ কম থাকাই দারিদ্রতা? আমি বললাম হ্যাঁ। তখন নবী স. বললেন, প্রকৃত ধনাঢ্যতা হচ্ছে অন্তরের ধনাঢ্যতা প্রকৃত দারিদ্রতা হচ্ছে অন্তরের দারিদ্রতা। এ অর্থ হলো আয়ের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা, ব্যয়ের সময় হিসাব করে হিসাব করা।

 

খ. জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্রে ভালভাবে বুঝেশুনে করা। আবু সাইদ খুদরী রা. বললেন হতে বর্ণিত. কিছু সংখ্যক আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ স. এর নিকট কিছু চাইলেন তিনি তাদের দিলেন, পুনরায় তারা চাইলেন তিনি তাদের দিলেন। এমনকি তার নিকট যা ছিল সব শেষ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আমার নিকট যে মাল থাকে তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখি না। তবে যে যাচনা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোন নি‘আমত কাউকে দেওয়া হয়নি। সুতরাং মনের দিক থেকে অল্পে তুষ্ট থাকা, হাত না পাতা, ধৈর্য্য ধারন করা কাম্য। আর শারীরিক দিক থেকে কাম্য হল কাজ করে জীবিকা উর্পাজন করা। নবী স, বলেন, তোমাদের কেউ তার রশি নিয়ে জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে বাজারে যায়, তারপরে সেখানে বিক্রি করে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন, এটা মানুষের কাছে তার হাতপাতার চেয়ে উত্তম; কারন মানুষ তাকে কিছু দিতে পারে। এজন্য মক্কার লোকেরা ব্যবসা করত, আর মদীনার লোকেরা চাষাবাদ করত। গ, নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ব্যয় সীমাবদ্ধ করার শিক্ষা গ্রহন করা। নবী স, বলেন, একটি বিছনা স্বামীর জন্য. আরেকটি স্ত্রীর জন্য, তৃতীয়টি মেহমানের জন্য আর চর্তুথটি শয়তানের জন্য। এর উদ্দেশ্য হল খরচ কম করা, যাতে করে ঋণ করতে অন্যের দ্বারস্থ হতে না হয় নিজের সম্পদ দ্বারাই যেন যথেষ্ট হয়। ঘ. দানের অভ্যাস করা। নবী স. বলেন, নিজের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হচ্ছে দাতা আর নিচের হাত হচ্ছে গ্রহীতা।

 

হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, সামাজিক বৈষ্যম দূর করা, যাতে দানকারীর সংখ্যা বেশি হয়, এবং গ্রহণকারীর সংখ্যা কম হয়। এভাবেই স. নবী তার প্রিয় সাহাবীদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারাও সেই শিক্ষা গ্রহন করে জীবনে বাস্তবায়ন করেছিল। দাওয়াতের ময়দানে এর বিশাল প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সুতরাং আমাদের উচিত হল, উক্ত চরিত্রগুলো নিজেদের মধ্যে সন্নিবেশ ঘটানো, মুসলিমদের ঐ চরিত্র থেকে দূরে থাকা উচিত, যা উক্ত উক্ত সুন্দর সুন্দর বিষয় গুলোকে ধ্বংস করে। আর এটা জানা উচিত যে যেই ব্যয় অহংকার প্রদর্শনের জন্য হয়ে থাকে তার মাধ্যমে শুধুমাত্র সমাজে দারিদ্রতাই বৃদ্ধি পায়। এজন্য মুসলিমদের উচিৎ সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। এর অর্থ এই নয় যে নিজের আয় থেকে উপকৃত হওয়া যাবে না বা আল্লাহর নি‘আমত এর সদ্বব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ইসলাম চায় মানুষ তার ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুক, ইসলাম ধোঁকাবাজিকে অপছন্দ করে আর অন্যের অনুসরন করতে গিয়ে অপচয় করাকে ও নিষেধ করে। অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পানাহারের আয়োজন করা, বিশেষ করে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানাদিতে এগুলোর মাধ্যমে সম্পদ নষ্ট ও ভবিষ্যতের বিপদ ডেকে আনা হয়। সুতরাং প্রত্যেকটি মুসলিমের ক্ষেত্রেই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিৎ।

 

ইসলামী জীবন ধারায় অপচয় ও অপব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। উপর্যোক্ত আলোচনার মাধ্যম এটাই প্রমানিত হলো যে, ইসলাম অপচয় ও অপব্যয়কে ষ্পষ্টভাবে হারাম ঘোষনা করেছে। কোন মুসলিম কখনো তার অর্থ সম্পদের সামান্য অংশ অপচয় কিংবা অপব্যয় করতে পারে না। বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এবং দাদ্রিতা দূরীকরনে আর্ন্তজাতিকভাবে অপচয় অপব্যয় বন্ধ করতে হবে। তবে এটা শুরু করতে হবে নিজে থেকে। ব্যক্তি যখন নিজে অপচয় ও অপব্যয় না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করে পরকালে জবাবদিহিতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে’ আয় এবং ব্যয় করবে তখনই কেবল অপচয় অপব্যয় বন্ধ হতে পারে অন্যথায় নয়। তাই ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পযর্šÍ সকলেরই এই অপচয় ও অপব্যয় থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই শরী‘আহর অন্যতম উদ্দেশ্য।

লেখক : মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান, পাঠানপাড়া (খান বাড়ী), কদমতলী, সদর সিলেট।

Manual2 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code