জকিগঞ্জে ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনার অবসান: ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫

জকিগঞ্জে ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনার অবসান: ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

Manual3 Ad Code

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা :
সিলেটের জকিগঞ্জে একটি পবিত্র মসজিদকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সৌহার্দ্যপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে।

 

ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সারাদেশে ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ, বসানো যাবে না মদ-গাজার আসর’ শীর্ষক একটি অনলাইন সংবাদে দীপক বিশ্বাস নামের এক যুবকের আপত্তিকর মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রহিমখারচক গ্রামের বাসিন্দা ও মৌলভীবাজারে একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মচারী।

Manual6 Ad Code



মন্তব্যটি সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জকিগঞ্জসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেলেও, উত্তেজনা প্রশমনে দীপক ফেসবুক লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ ও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করে।

 

Manual8 Ad Code

পরবর্তীতে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জকিগঞ্জ থানায় ওসি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্নার সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

Manual8 Ad Code

মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মুফতি আবুল হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, মাওলানা জালাল উদ্দীন, মাওলানা আলা উদ্দিন, মাওলানা জয়নুল ইসলাম, সাংবাদিক কে.এম. মামুন, মাওলানা ফদ্বলুর রহমানসহ অনেকে।

 

হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- জোতিষ চন্দ্র পাল, সঞ্জয় চন্দ্র নাথ, রাজস বিশ্বাস, শুভ্রকান্তি দাস চন্দন, কর্ণময় দাস, নব কিশোর বিশ্বাস, অসিত বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।

 

বৈঠকে দীপক বিশ্বাস তার বাবা ও আত্মীয়দের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “আমি আমার ভুল বুঝেছি, ভবিষ্যতে এমন কোনো মন্তব্য করবো না।”

 

Manual3 Ad Code

এসময় মুসলিম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা ইসলাম ধর্মে ‘ক্ষমা’কে মহৎ গুণ হিসেবে তুলে ধরে দীপককে ক্ষমা করে দেন। বৈঠকে সবাই বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে জকিগঞ্জের আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখার আহ্বান জানান।

 

ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে সাধুবাদ জানান।

 

(সুরমামেইল/এএইচএল)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code