শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

Manual6 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন।

 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান বলে জানা গেছে বলে জানিয়েছেন শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম।

Manual4 Ad Code

 

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে (শ্রীবর্দী জামায়াতের সেক্রেটারি) শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর শুনেছি।

 

জানা যায়, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হন।

 

Manual2 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনে আসন গ্রহণ করেন। পরে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা মাঠে পৌঁছালে বসাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ে স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Manual5 Ad Code

 

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। পরে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে সংগঠনটি।

 

Manual6 Ad Code

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখনও কোনও পক্ষ মামলা করেনি।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code