সিলেটের স্বায়ত্তশাসন ও ‘সিলটি ভাষা’কে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

সিলেটের স্বায়ত্তশাসন ও ‘সিলটি ভাষা’কে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি

Manual4 Ad Code

‘সিলটি পাঞ্চায়িত’র সংবাদ সম্মেলন।


মেইল ডেস্ক:
সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’।

 

Manual7 Ad Code

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ এর সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে নিজেদের দাবি আদায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

 

নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, তারা গত ১৮ এপ্রিল সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে একটি জনসভা করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য তারা অনুমতি চেয়ে এসএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবরে আবেদন করেন। তবে পরদিন পুলিশ কমিশনার তাদেরকে ডেকে প্রথম দুটি দাবি বাদ দিয়ে জনসভা করতে বলেন। এর প্রতিবাদে ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ তাদের জনসভা স্থগিত ঘোষণা করে।

Manual5 Ad Code

 

তিনি বলেন, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ এর বিভিন্ন দাবির মধ্যে অন্যতম হলো সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন। কারণ সিলেট দেশের মধ্যে একমাত্র বিভাগ, বাংলা বাদে যার নিজস্ব বর্ণমালা আছে। এই ভাষার নাম সিলটি ভাষা এবং অক্ষরের নাম সিলটি নাগরী লিপি। অনেকে এই ভাষার ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

 

নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেসব দেশে প্রধান ভাষার পাশাপাশি দ্বিতীয় অফিসিয়াল ভাষা চালু আছে। ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ সিলটি ভাষাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অফিসিয়াল ভাষা বা দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে দীর্গদিন ধরে। কারণ কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ সিলেটবাসী এই ভাষায় কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’। এর মধ্যে আছে মানববন্ধন, মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান ইত্যাদি। ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ কোনো নিষিদ্ধ বা আন্ডারগ্রাউন্ড দল না। ১৮ এপ্রিল জনসভা করার অনুমতি না দিয়ে পুলিশ তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

 

Manual1 Ad Code

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ এর ন্যায্য দাবি-দাওয়ার আন্দোলনে সাড়া দিয়ে উল্লেখিত দাবিগুলো মেনে নেবে। নতুবা তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করতে বাধ্য হবেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাজ রীহান জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Manual1 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code