লিবিয়ায় আটকে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের পরও আরও ২৫ লাখ দাবি!

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২৬

লিবিয়ায় আটকে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের পরও আরও ২৫ লাখ দাবি!

Manual7 Ad Code

রায়হান চৌধুরী (৩০) ও দালাল ও মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম। ফাইল ছবি


নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরীকে (৩০) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙ্গুল কেটে দেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে হাতের কবজিও কেটে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো। নির্যাতন করার পর এখন গত ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে।

 

Manual5 Ad Code

এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়েরের পর বিপাকে পড়েছেন এমন অভিযোগও করেছেন পরিবারটি।

 

গতকাল মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদী আবু তাহের চৌধুরী চলতি বছরের গত ১৫ ফেব্রুয়ারী নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

বাদি মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর ছেলে রায়হান চৌধুরীকে ফ্রি ভিসায় ইতালিতে প্রলোভন দেখায় দালাল ও মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও তার সহযোগী রাগিব। তাদের প্রলোভনে ইটালি যাওয়ার জন্য সম্মত হয়ে বাদী তাদেরকে পাসপোর্ট প্রদান করেন। এর কয়েকদিন পর মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী হাসেনা বেগম, মেয়ে রিনু বেগম, শান্তা বেগম, রুবিনা বেগম তার বাড়িতে এসে বাদীকে জানায় যে তার ভিসা হয়েছে।

 

তাদের কথা মতো ২০২৫ সালের ১২ সেপেম্বর বাদী তাদেরকে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর কিছুদিন পরে বাদীর ছেলে রায়হান চৌধুরীর পাসপোর্ট দেয়ার সময় দালাল রাকিব এর বাড়িতে গিয়ে আরও নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ভিকটিম রাযহান চৌধুরীকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব ও পরে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়।

 

সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব মিলে রায়হান চৌধুরীকে ইটালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। তারা রায়হান চৌধুরীর মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে কিংবা ইটালি যেতে চাইলে দেশে থাকা তাদের সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে আরও ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

 

রায়হান চৌধুরীকে শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও কলে দেখায় চক্রটি। ভিডিও কলে রেখে তাঁর হাতের একটি আঙ্গুল কেটে দেওয়া হয় এবং তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজিও কেটে দেওয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করে মানবপাচারকারীরা।

 

তাই বাধ্য হয়ে ভিকটিমের বাবা জমি ও সোনা বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দেশে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে ও বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। সর্বমোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও তারা ভিকটিমকে দেশে বা ইটালি পাঠায়নি।

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

এখন আবারও রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও করে দেখিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করলে তাঁর বাবা নিরুপায় হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে ইতালিতে রায়হান চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন। দালাল চক্র কোথায় রাখছে কোনো খবর রায়হান চৌধুরীর পরিবার পাচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। সে কোথায় কিভাবে আছে আল্লাহ ভালো জানেন। আমার ছেলে রায়হানকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার হাতের একটি আঙ্গুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দাবকৃত টাকা না দিলে তার হাতের কবজি কেটে দিবে বলে হুমকিও দিচ্ছে। এরইমধ্যে আমার ছেলে ৪২ দিন ধরে সেখানে নিখোঁজ রয়েছে।

 

তিনি জানান, আমাকে মামলা তোলার জন্য ও জেলে হাজতে থাকা প্রধান আসামি নজুরুল ইসলামকে জামিনে নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

 

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া বলেন, মামলাটি কিছুদিন আগে অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবেন।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code