শিশু ধর্ষণ: রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০২৬

শিশু ধর্ষণ: রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও দফায় দফায় সংঘর্ষ

Manual1 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় ক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন।

Manual1 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিসমিল্লাহ ম্যানশন ঘিরে শত শত এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে বের করে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা। রাত ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে বাধা দেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বাকলিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও। ওই সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

 

Manual1 Ad Code

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে বিসমিল্লাহ ভবনের সিঁড়িঘরে এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে ঘটনাস্থলে যায় বাকলিয়া থানা পুলিশ। অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে আনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যদের পিছু হটে ভবনের ভেতরে অবস্থান নিতে হয়। এ সময় জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা। রাত সাড়ে ৯টায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা।

 

এদিকে শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটির কক্ষে শিশুটিকে রেখে মা পোশাক কারখানায় কাজে যান এবং বাবা রিকশা চালাতে বের হন। পরে তাদের মেয়েকে একা পেয়ে পাশের দোকানের কর্মচারী মনির (৩২) ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ওই ভবন ঘিরে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে জনতা বাধা দেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরী অংশ নেন এবং বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তারা হলেন- মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। তারা জানিয়েছেন, ফেসবুক লাইভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাতে ও পায়ে আঘাত লাগে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।

Manual4 Ad Code

 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‌‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।’

Manual8 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code