হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ডাকবাংলোয় মার্কেট নির্মাণ!

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৬

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ডাকবাংলোয় মার্কেট নির্মাণ!

Manual7 Ad Code

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিনে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের জারিকৃত রুল ও স্টেটাস্কো আদেশ অমান্য করে মার্কেট নির্মাণ অব্যাহত রাখায় পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

সোমবার পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গোলাপগঞ্জে ঢাকা দক্ষিনে অবস্থিত ডাকবাংলা পুকুর পরিদর্শন করেন।

 

সম্প্রতি হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাইরুল আলম পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মানের বিষয়ে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করলে বুধবার মহামান্য হাইকোর্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এবং বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিতর্কিত ভূমির ওপর তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (ঝঃধঃঁং ছঁড়) বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

 

রিটকারী অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম জনস্বার্থে করা মামলায় জানান, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার দত্তরাইল মৌজায় অবস্থিত সরকারি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। এই রিটের প্রেক্ষিতে আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন কেন পুকুরের ওপর মার্কেট নির্মাণকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, কেন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন পুকুরটিকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হবে না। এছাড়া আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন, ভরাট কার্যক্রম ও নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অনুমতির বিস্তারিত তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এই রীটের বিষয়ে অবগত হয়ে পরিবেশবাদীরা পুকুরটি আজ পরিদর্শন করেন।

 

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার)- এর নেতৃত্বে পরিদর্শন দলে অন্যানের মধ্যে ছিলেন ট্রাস্টি ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আদায় কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম, ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী (দীপন), ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ঐতিহ্য গবেষক আসিফ আজহার, পরিবেশকর্মী রোমেনা রোজী, তাপস পুরকায়স্থ ও নাহিদ পারবেজ বাবু।

 

পরিদর্শন শেষে আব্দুল করিম কিম বলেন, ২০২০/২০২১ সালেও জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের সুযোগে দ্রুততার সাথে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় একটি ভূমি খেকো চক্র। যেই চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তার।

 

Manual6 Ad Code

ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ জনস্বার্থের পরিপন্থী। পুকুর ও জলাভূমি সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

রিটের পিটিশনার আইনজীবি খাইরুল আলম বলেন, এই সম্পত্তিটি মূলত প্রখ্যাত জমিদার কালীপ্রসাদ দত্ত চৌধুরী স্থানীয় জনগণের কল্যাণের জন্য ভূমি ও পুকুর দান করেছিলেন। সেই স্থানে পরবর্তীতে সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র, ডাকবাংলো ও সরকারি কোয়ার্টার নির্মাণ করে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যক্তিস্বার্থে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

 

পরিদর্শন শেষে পরিবেশবাদীরা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থানীয় বিশিষ্টজন এর সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

Manual6 Ad Code

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম, ঢাকাদক্ষিনের বিশিষ্ট মুরুব্বি শাহ জামাল, কবির আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিছবাহ আহমদ, সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, আজিজ খান, জাবেদ আহমেদ প্রমুখ।

Manual5 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

(সুরমামেইল/এআরকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code