প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ১১ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ১১ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

Manual6 Ad Code

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি মোঃ আব্দুল মমিনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

Manual5 Ad Code

 

আদালত রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

দণ্ডিত মো. আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সি বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে নিজ বাড়িতে রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন শিশুটিকে ধর্ষণ করছে। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়া হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে।

Manual6 Ad Code

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মো. আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। দণ্ডিতের বিদ্যমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

একই মামলার অন্য আসামি মোঃ এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

 

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Manual4 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code