সিলেট ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আগামী কয়েক দিন উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকা ও জেলার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় পাউবোর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে আসে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি। একই নদীর শেওলা পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ১৪ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৪৫ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৫৯ মিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৮ দশমিক ৪৪ মিটার। চারটি পয়েন্টেই পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ৪১ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৬৮ মিটার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কানাইঘাট পয়েন্টে পানি শূন্য দশমিক ০১ মিটার কমলেও সিলেট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ০৩ মিটার বেড়েছে।
এ ছাড়া সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ২৭ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটারের বিপরীতে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৫৪ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৮৯ মিটার। অন্যদিকে লোভাছড়া নদীর লোভা পয়েন্ট এবং ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, আগামী কয়েক দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার সম্ভাবনা কম। তবে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জেলার বিভিন্ন নদীর পানি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীর রক্ষা বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো এখন পর্যন্ত নিরাপদ রয়েছে।
এদিকে, রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি