সিলেট ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা ৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে দাখিল করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
কেন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেন করলেন এটি নিশ্চয়ই আপনাদের জানার কৌতূহল রয়েছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন।
স্পিকার বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রাষ্ট্রপতির অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রােগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
এসব রোগের প্রাদুর্ভাবে এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রপতির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তিনি বলেন, তার (রাষ্ট্রপতির) দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র একমাত্র আমি গ্রহণ করেছি।
স্পিকার এ সময় বলেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি। কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার এ দায়িত্ব পালন করেন।
এরআগে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অসুস্থতার কথা জানিয়ে পত্রে রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি