নবীগঞ্জে বাঁধ নির্মাণ করে ৫০ একর ফসলি জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্ধি

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬

নবীগঞ্জে বাঁধ নির্মাণ করে ৫০ একর ফসলি জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্ধি

Manual3 Ad Code

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে ফরিদপুর গ্রামে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি। ফলে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমি ও সরকারী প্রাইমারী বিদ্যালয় পানি বন্ধি রয়েছে।

 

জানা গেছে, একপক্ষ বাঁধ কেটে দিতে চাইলে অন্যপক্ষ বাঁধ নির্মাণ করে জোর করে পানি বন্ধ করে দিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় ফরিদপুর ও ধর্মনগর গ্রামের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুুহুর্তে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে- অন্তত তিন বছর ধরে পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় ফরিদপুর গ্রাবাসীর অভিযোগ, প্রাকৃতিক খাল দখল, ভরাট এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্ধা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ডাঃ মিছবা জানান, একসময় গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক খালগুলো দিয়ে সহজেই অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হতো।

 

Manual7 Ad Code

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল দখল, ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক আবাদ করতে পারেন না, আর যারা আবাদ করেন তাদের ফসলও নষ্ট হয়ে যায়।

 

ফরিদপুর গ্রামের কনা মিয়া ও আব্দুল মুহিত অভিযোগ করেন, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি প্রকৃত মালিকরা ব্যবহার না করলেও কিছু ব্যক্তি সেগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। পানি নিস্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের গ্রামের আব্দুস সালাম ও ধর্মনগর গ্রামের পাবেল আহমদ। যার প্রভাব আজ তিন বছর যাবৎ পুরো গ্রামের ৫০ একর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

 

এ অবস্থায় শুধু কৃষিই নয়, গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে পড়ছে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এবং খেলাধুলাসহ সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে গ্রামের সচেতন মানুষ উদ্যোগ নিয়ে দুটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই স্থানে ফরিদপুর গ্রামের আব্দুস সালাম নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেন।

 

বাঁধ অপসারণের পর সংশ্লিষ্ট দখলদারদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

Manual3 Ad Code

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও সেখানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

 

ফরিদপুর গ্রামের ফুলকাছ মিয়া বলেন, বাঁধের কারনে আমার তিন কেদার জমি প্রতি বছর পাকাল (বাদ) যায়। গ্রামের সবাই মিলে এই বাঁধগুলো অপসারন করা জরুরি।

 

ফরিদপুর গ্রামের চঞ্চলপাল বলেন, আমি এই বাঁধের জন্য নবীগঞ্জ থানায় মামলা করি। দারোগা সাব এসে তিনটি বাঁধ কেটে দিলে পানি নেমে যায়। কয়েকদিন পরে আবারও প্রভাবশালী পাভের ও সালামগংরা বাঁধ নির্মাণ করেন। এখন বাঁধের জন্য জমির পাশাপাশি আমাদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। আমাদের বাড়ি ঘরে পানি উঠে যাচ্ছে, বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

 

এ ব্যাপারে বাঁধ নির্মানকারী আব্দুস সালাম বলেন, আমি বাঁধ দিয়েছে এটা সত্যি। আমার আগে ধর্মনগর গ্রামের পাভেল আহমদ জোর করে সরকারী জায়গায় বাঁধ দিয়ে পানি আটক করে। সে যদি বাঁধ কেটে দেয় আমিও কেটে দিবো। কয়েকদিন আগে আমার বাঁধ কাটা হলেও পাভেলের বাঁধ কাটা হয়নি। তাই আমি আবার বাঁধ আবার দিয়েছি।

 

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে ধর্মনগর গ্রামের পাভেল আহমদ বলেন, আমি বাঁধ দিয়েছি, এই জায়গা দিয়ে পানি এসে আমাদের জমির ফসল ডুবিয়ে দেয়। সরকারী জায়গা সালাম মিয়া বাঁধ দিয়ে রেখেছেন সেটা কেউ প্রতিবাদ করেন না।

 

এ বিষয়ে ফরিদ পুর ও ধর্মনগর গ্রামের মানুষ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমাকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code