সিলেট ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থী ঠেকাতে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে উপসচিব শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তর-সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু পরীক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করে বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মতো পদ্ধতি রয়েছে।
এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য ও ভুয়া প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে দেওয়া ১২ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে:-
১. আবেদনপত্রে অবশ্যই আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেমন ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে কেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা করা যেতে পারে।
৪. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
৫. একই সঙ্গে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে থাকা ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকদের উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র ও লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে হাতের লেখা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরে ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. এছাড়া ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে। পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে যোগদানপত্র গ্রহণ করতে হবে।
১০. পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। কোনো ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।
১২. প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত ও প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকের ব্যবস্থা নিতে হবে।
(সুরমামেইল/এফএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি