রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৬

রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

Manual7 Ad Code

K Z

সুরমা মেইল নিউজ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আগামী ৩ মার্চ ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগের ওই মামলায় আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদ তালুকদার এ আদেশ দেন।

Manual1 Ad Code

এর আগে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ড. মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাদীপক্ষে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, ঢাকা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর খোন্দকার আব্দুল মান্নান, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু প্রমুখ শুনানি করেন।

Manual5 Ad Code

মামলায় দণ্ডবিধির ১২৪ (ক) ধারার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পাশাপাশি ১২৩ (ক) ধারায় বাংলাদেশ সৃষ্টির নিন্দা ও তার সার্বভৌমত্ব বিলোপে সমর্থন করার এবং ৫০৫ ধারায় জনগণের অনিষ্ট সাধন সহায়ক বিবৃতি দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আদালত তিনটি ধারায়ই অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারির ওই আদেশ দেন।

মামলার তিনটি ধারার মধ্যে ১২৪ (ক) ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা শুধু যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড, দণ্ডবিধির ১২৩(ক) ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৫০৫ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলাটিতে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রকাশক এসএম বক্স কল্লোলসহ আটজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

মামলায় বাদী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, “তিনি তো (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ‘আজকে বলা হয়, এতো (৩০ লাখ) শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও তো অনেক বিতর্ক আছে।” এই বক্তব্য পরদিন দৈনিক আমাদের সময়সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সবিস্তারে প্রকাশিত হয়।

তিনি বলেন, এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর খালেদার জিয়াকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। লিগ্যাল নোটিশে খালেদা জিয়াকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত না করায় গত ১৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি মামলার অনুমতি প্রদান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাদী বলেন, খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ঘোষণাপত্রের পরিপন্থিই নয় দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে বর্তমান সরকারের প্রতি ঘৃণার সঞ্চায় করেছেন। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। যা দণ্ডবিধির ১২৩(ক), ১২৪ (ক) এবং ৫০৫ ধারার অপরাধ। তাই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হোক।

এদিকে মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ হওয়ার পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত ভবনের সামনে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

Manual4 Ad Code

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এটা সরকারের একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, এর কোনো ভিত্তি নেই, যা ম্যাডাম আইনগতভাবেই মোকাবেলা করবেন।

প্রসঙ্গত, একই অভিযোগে গত ২৭ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১২৩ (ক) ধারায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সরকারের অনুমতি গ্রহণ করে শাহবাগ থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া একই অভিযোগে নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানির মামলা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code