ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রোগী সাধারণ !

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৬

ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রোগী সাধারণ !

Manual3 Ad Code

ফাইল ছবি

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদন :: সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে ঔষধ পাওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যাশিত ঔষধ পাচ্ছেন না রোগীরা। এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগের প্রায় সরকারী হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারীর কারসাজিতে বিপুল পরিমান টাকার ঔষধ বিনষ্ট হচ্ছে। আর হত-দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে ঔষধ না পেয়ে ছুটছেন বাহিরের ফার্মেসী গুলোতে। হাসপাতালের ওইসব অসাধু ব্যক্তি সেখান থেকে আদায় করে নিচ্ছে নিয়মিত পার্সেন্টিস। এতে একদিকে যেমন সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে। ফলে প্রাসঙ্গিক কারণে সচেতন মহল মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সরকারী হাসপাতাল থেকে। জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোতে রয়েছে নানান অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা। এর কারণেই বিনামূল্যের অনেক ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ন হচ্ছে হাসপাতালের ষ্টোরে। এক শ্রেনীর কর্মচারী ইচ্ছাকৃত ভাবে রোগীদের সরকারী ঔষধ না দিয়ে বাহির থেকে ক্রয়করে আনতে বাধ্য করে। এরা মূল্যবান সরকারী ঔষধ বিনষ্টের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। কখনো কখনো ষ্টোরে ঔষধ থাকর পরেও তারা বলে ঔষধ নেই।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক রোগী দেখে হাতে সরকারী ঔষধের জন্য স্লিপ ধরিয়ে দিলেও ষ্টোরে ঔষধ না পেয়ে স্লিপ হাতে বাহিরের ফার্মেসীতে পা বাড়াতে হয় রোগীদের। এতে রোগীরা, বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হন। আর এই সুযোগে সরকারী সম্পদ লুট-পাট করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে এক শ্রেনীর অসৎ কর্মচারীরা। সূত্র মতে, সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে ঔষধ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, অন্ধকার পথে কালো বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে। অসৎ কর্মচারীরা অর্থের লোভে আইন ও নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারী ঔষধ হাসপাতাল থেকে পাঁচার করছে। সেই ঔষধই আবার হাসপাতালে ঘাপটি মেরে থাকা চোরদের সঙ্গে বাজারের অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ীদের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। হাসপাতালের চোরাই ঔষধ এদের কারো কারো ব্যবসার মূলপুঁজি। এই দুই অপ-শক্তির কারণে সরকারী স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। এসব তথ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অজানা নয়।

Manual7 Ad Code

জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় জেলা-উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন হাসপাতাল। ব্যবস্থাপত্র থেকে শুরু করে ঔষধ ও আনুসাঙ্গিক নানা সামগ্রী প্রদানেরও ব্যবস্থা রয়েছে অনেক হাসপাতালে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে সাধারণ অসুখের প্রায় যাবতীয় সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে, বিভাগীয় সদরের হাসপাতালগুলোতেও এসব সহায়তা রোগীদের ভাগ্যে কিংবা কপালে জুটে না। এর কারণ হিসেবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রয়েছে চুরি। এই চুরি ও লুট-পাট বন্ধ করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রির হস্থক্ষেপ কামনা করা যাচ্ছে। সেবার নামে অসহায় রোগীদের দূর্ভোগে ফেলে যারা নিজেদের আখের গোছানোর প্রতিযোগীতায় নেমেছেন-তাদের কবল থেকে হাসপাতালগুলোকে মূক্ত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যতায় স্বাস্থ্য সেবায় সরকারের অঙ্গিকার বাস্থবায়ন হবে না।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code