সিলেট ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৬
সুরমা মেইল ডেস্ক :: ভারতের আসাম থেকে বানের পানিতে ভেসে আসা বুনোহাতি ‘বঙ্গ বাহাদুর’কে নিয়ে আর কাউকে ভাবতে হবে না। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো সেই বুনোহাতিটি। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়ড়া এলাকায় হাতিটির মৃত্যু হয়। গতকাল সোমবার থেকেই সে অসুস্থ ছিলো। ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসিম মল্লিক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এই বুনোহাতিটির মৃত্যুতে এলাকাবাসী অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তফিজুর রহমান জানান, সোমবার তাপমাত্রা বেশি থাকায় বঙ্গ বাহাদুর অসুস্থ হয়ে কাদাপানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিটির শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ১২টি স্যালাইন দেয়া হয়। হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হয়েছিলো।
কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুকুল মিয়া জানান, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেবা দিয়েও বঙ্গ বাহাদুরকে বাঁচাতে পারলাম না। আমাদের কাঁদিয়ে সে চলে গেলো না ফেরার দেশে।
বঙ্গ বাহাদুরকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। তাঁকে উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই থেকে দুটি বড় হাতি আনার কথা ছিলো। আজ সকালেই হাতিগুলোর সরিষাবাড়ী পৌঁছানোর কথা। তার আগেই মারা গেলো বঙ্গ বাহাদুর। গতকাল পায়ে শিকল পরাতে গেলে বঙ্গ বাহাদুরের লাথিতে গাজীপুরের সাফারি পার্কের হাতির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত এক কর্মী গুরুতর আহত হন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত বৃহস্পতিবার বঙ্গ বাহাদুরকে প্রথমবার চেতনানাশক ওষুধ দেয়া হয়। এরপর চার পায়ে শিকল ও রশি দিয়ে কয়ড়া গ্রামের একটি আমগাছে বেঁধে রাখা হয়। গত শনিবার শিকল ভেঙে বঙ্গ বাহাদুর পালানোর চেষ্টা করে। রোববার দ্বিতীয় দফায় চেতনানাশক দিয়ে চার পায়ে শিকল পরানো হয়। কয়ড়া গ্রামের খোলা মাঠে কাদা পানিতে বেঁধে রাখা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গ বাহাদুর অসুস্থ হয়ে শিকল পরা অবস্থায় কাদা পানিতে হঠাৎ পড়ে যায়।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বানের জলে ভেসে ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনোহাতিটি। এরপর কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাতিটি ছিলো ৯ জুলাই পর্যন্ত। ১০ থেকে ১৩ জুলাই গাইবান্ধায়, ১৪ থেকে১৬ জুলাই জামালপুরে, ১৭ থেকে ১৮ জুলাই বগুড়ায়, ১৯ থেকে ৩০ জুলাই সিরাজগঞ্জে এবং তারপর ৩১ জুলাই থেকে আবার জামালপুরে চষে বেড়ায় সে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে নদী ও স্থলপথ মিলিয়ে চার জেলার কয়েক’শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে হাতিটি। গত ৩ আগস্ট ভারতীয় একটি দল এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগালেও ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরে যায় তারা। খাবারের প্রলোভনে সাড়া না দেয়ায় বুনো হাতিটিকে বশে আনতে পোষা একটি মাদী হাতিও আনা হয়েছিলো। কিন্তু উল্টো পোষা হাতিটিকে তাড়িয়ে দেয় বঙ্গবাহাদুর। বুধবার প্রথমে ‘প্লাস্টিক ডার্ট’ ছুড়লে তা হাতির গায়ে লেগে বেঁকে যায়। এরপর সরিষাবাড়ীর কয়রা গ্রামে ১১ আগস্ট ‘মেটাল ডার্ট’ ছুড়ে হাতিটি অচেতন করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি