ভূতুরে বিদ্যুৎ বিলের কারণে ভূক্তভোগী নগরবাসী

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৬

ভূতুরে বিদ্যুৎ বিলের কারণে ভূক্তভোগী নগরবাসী

Manual6 Ad Code

সুনির্মল সেন :: সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এর প্রতিটি ওয়ার্ডে ভুতুরে বিদ্যুৎ বিলের কারণে গ্রাহক সাধারণ অতিষ্ট হয়ে পরেছেন। বিউবো সিলেট অফিসের এ ধরনের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। এ দুর্নীতির ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও এই দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। অনেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয়ে অতিরিক্ত বিলও দিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ গ্রাহক তথা ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

Manual5 Ad Code

ভূক্তভোগী একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) মিটার রিডাররা প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ে সরেজমিন মিটার দেখে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করার কথা।

Manual8 Ad Code

এ ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা নানান কৌশল ও চল-ছাতুরীর আশ্রয় নিয়ে বিদ্যুৎ লাইনম্যান’র সহযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। অনেক রিডার সরেজমিনে না এসেই অফিস কিংবা বাসায় বসেই নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করেন। ফলে বিদ্যুৎ বিলের সাথে বাস্তবে মিটার রিডিংয়ের মিল পাওয়া যায় না।

Manual7 Ad Code

আবার অনেক রিডার রয়েছেন, যারা গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ অর্থ পেয়ে রিডিং পরিমান কমিয়ে দেয়। এমন একাধিক ঘটনার সংবাদ ওয়ার্ড ঘুরে পাওয়া গেছে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরদারি না থাকায় লাইনম্যান ও মিটার রিডাররা দিনের পর দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তারা অবৈধ উপায়ে টাকা নিয়ে এক জনের বিল অপর জনকে প্রদান করার অভিযোগ ব্যাপক। বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে চল-ছাতুরীর ও প্রতারনার বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগের শেষ নেই।

“নগরীতে ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকরা বিপাকে” এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এ সময় ওই পত্রিকায় বিউবো’র সিলেটের ডিভিশন-১এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাদির জানিয়েছেন, শিক্ষিত জনবল না থাকায় বিদ্যুৎ বিলের এই সমস্যা হচ্ছে। এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি আমরা অস্বীকার করছি না। তবে গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষিত জনবল (মিটার রিডার) আমরা নিয়োগ দিচ্ছি। বিষয়টি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। বর্তমানে যারা আছে এদেরকে বাদ দেয়া হবে। নতুন জনবল নিয়োগের পর এই সমস্যা আর থাকবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ও বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, “আমলা তান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এসব ঘটছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে ছিলাম গণতন্ত্র নির্ভর বাংলাদেশের জন্য, আমলা নির্ভর বাংলাদেশের জন্য নয়। বিউবো’তে যেসব ঘটছে সেইসব একমাত্র দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের কারসাজি। শেখ হাসিনা সরকার তাদেরকে ভালো বেতন-ভাতা দেয়ার পরেও সাধারণ ভুক্তাদেরকে তারা হয়রানী করছে। এটা আমলা নির্ভর রাজনীতি ও প্রশাসন নির্ভর রাজনীতির বর্হিপ্রকাশ।”

তিনি বলেন ‘এ ধরনের কর্মকর্তা বিউবো’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। দায়সারা কথা-বার্তা মিডিয়াতে বলছেন।’

মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি (মাপসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক আবুল বাশার বাদশা বলেন, ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দুর্নীতি করে সরকারকে ডুবাচ্ছে। তাদের কারণেই এই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একদিন বেসরকারী খাতে দিয়ে দিবে সরকার। এরজন্য দায়ী বিউবো’র কর্মরত-কর্মচারীরা।’

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক। দেশে শিক্ষিত জনবল থাকা সত্যেও বিল তৈরী করতে অশিক্ষিত-অনবিজ্ঞ লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় কেন? এদেরকে তো বিউবো’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই নিয়োগ দিয়েছে এবং এদের মাধ্যমে লাভবান হয়েছে।’ এদেরকে বেতন-ভাতা দিয়ে জনগণের ক্ষতি করছে বিউবো’র বড় মাপের কর্মকর্তারা। দোষ থাকলে বা দুর্নীতি হলে এর দায়বার তো তাদের উপরেই পরে।

তিনি আরো বলেন, ‘জনৈক প্রকৌশলীর বক্তব্য দায়সারা, শাখদিয়ে মাছ ডাকার শামিল। একটি কথা আছে না, ‘ঠাকুর ঘরে কে-রে আমি কলা খাইনা।’ তার (প্রকৌশলী) বেলায় এ কথাটি প্রযোজ্য।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code